বিএসএফ-এর গুলি চলছেই, প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশীরা
Advertisements
 বিএসএফ এবার দুই র‌্যাব সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বি-আমতলী স্বরসতীপুর সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ২ র‌্যাব সদস্যকে।
মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) কর্তৃক ধরে নিয়ে যাওয়া ২ র‌্যাব সদস্য হলেন- র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি-১ এর সহ-অধিনায়ক (এএসপি) শ্যামল চং ও কনস্টেবল আবু বকর সিদ্দিক।
এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফ’র কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাদা পোশাকে মটরসাইকেলে করে ৫ র‌্যাব সদস্য আমতলী স্বরসতীপুর সীমান্তের সমজিয়া মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযানে গিয়েছিলেন। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়েছিলেন তারা।
৫ সদস্যের এই দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালানা করছিলেন মাদকের বিরুদ্ধে। একটি ভাগে দু’জন এবং একটি ভাগে ছিলেন ৩ জন র‌্যাব সদস্য। ৩ জনের সমন্বয়ে র‌্যাবের গ্রুপটি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিক ইসরাফিলের ছেলে মিলনকে আটক করে। সে চিৎকার শুরু করলে ওই গ্রামের মোশাররফ মাস্টার ও হিরোসহ কয়েকজন মিলে র‌্যাবের উপর হামলা চালায়।
এ সময় মিলনকে ছিনিয়ে নেয় তারা। হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ফাঁকা গুলি করে পিছু হটেন ৩ র‌্যাব সদস্য। গুলির শব্দ শুনে অপর প্রান্তে থাকা দু’জনের সমন্বয়ে র‌্যাব-এর গ্রপটি তাদের সাথীদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। সীমান্তের নো ম্যান্সল্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ এসে দুই র‌্যাব সদস্যকে আটক করে তাদের ভারতীয় সমজিয়া ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর সন্ধ্যার দিকে বিজিবি পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফ’র কাছে পত্র পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ১০ নং পুনট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আব্দুল ওহাব জানান, র‌্যাব সদস্যরা সেখানে ক্রেতা সেজে মাদকবিরোধী অভিযানে যায়। সেখানে স্বরসতীপুর সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী মিলনকে হাতকড়া পড়ালে সে চিৎকার করে। এ সময় এক রাউন্ড গুলি করে র‌্যাব সদস্যরা পালিয়ে আসে। কিন্তু, একই অভিযানে অন্য স্থানে থাকা দু’জন র‌্যাব সদস্য সেখানে গেলে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়।
ওই এলাকার আরেক ইউপি সদস্য জাহির উদ্দিনও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে ২৯ বিজিবি’র অধিনায়ক শরিফ উল্লাহ আবেদের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপরদিকে র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি-১ ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি। ঘটনার বিষয়ে জানতে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হয়, পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বিজিবি। বিজিবি’র বি-আমতলী ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে উপরের অনুমতি ছাড়া কথা বলা নিষেধ বলে জানিয়ে দেয়া হয় সাংবাদিকদের।
Advertisements