ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
Advertisements

চট্টগ্রামের চকবাজারে এক যুবককে পুলিশে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন গুলিবিদ্ধ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১২টার দিকে একদল ছাত্রদলকর্মী এক যুবককে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে চকবাজার থানায় নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরই ছাত্রশিবিরের কর্মীরা থানায় এসে ওই যুবককে তাদের কর্মী দাবি করে মুক্ত করার চেষ্টা করে। তখনই থানার ভেতরে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দু’পক্ষকে থানা থেকে বের করে দেয় এবং বাইরে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে।

এরপর রাত ১টা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে রাত ৩টা পর্যন্ত। এ সময় চকবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, “মধ্যরাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে। রাত ৩টার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।”

সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে গণমাধ্যমে পৃথক বিবৃতি পাঠিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

ছাত্রদলের দাবি, মহসিন কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীরা কয়েক দিন আগে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছিল। সোমবার রাতে অভিযুক্তদের একজনকে দেখে ছাত্রদল কর্মীরা থানায় সোপর্দ করে। কিন্তু ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সেই যুবককে নিজেদের কর্মী দাবি করে থানায় এসে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফুটপাতে চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ার জেরে একজন আহত শিবির কর্মীকে “ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী” বলে পুলিশে দেয় ছাত্রদল। এ নিয়ে আলোচনার জন্য শিবির কর্মীরা থানায় গেলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। তবে পুলিশ বলেছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisements