সুন্দরবনের নিশানখালীতে ২০১১ সালে র্যাবের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হলেও পরে ছয়জন নিহত হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানি। তিনি বলেন, তৎকালীন র্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানটি তার কাছে সাজানো মনে হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সাহিদুর রহমানের দ্বিতীয় দিনের জেরায় এসব কথা বলেন সাব্বির রহমান। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১৩তম সাক্ষী হিসেবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি দেন তিনি। ওইদিন জবানবন্দি শেষে তার জেরা শুরু হয়।
জিয়াউলের আইনজীবীর জেরায় সাব্বির জানান, নিশানখালী অভিযানের আগের দিন রাতে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল আগে থেকেই সেখানে চলে যায়। মূল অভিযানিক দল ভোররাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ বনের ভেতর থেকে হুইসেলের শব্দ শোনা যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগে সেখানে পৌঁছানো দলটি ওই সংকেত দেয়। সংকেত পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান বন লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন।
সাব্বির বলেন, বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির পর এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে ছয়টি লাশ দেখানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, পরে তদন্ত করে তিনি জানতে পারেন, বাকি চারটি লাশ গোয়েন্দা ইউনিটের অগ্রবর্তী দল আগেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল। জিয়াউল আহসানের নির্দেশে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাগুলোকে মূল অভিযানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জেরায় সাব্বির আরও জানান, র্যাব-৮-এর কোনো অভিযানে গুলি খরচ হলে তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা হতো। তবে জিয়াউল আহসান র্যাব-৮-এর দপ্তরে কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র ও গুলি রাখতেন, যেগুলোর কোনো হিসাব রাখা হতো না বলে তিনি দাবি করেন। এসব অস্ত্র ও গুলি কোথা থেকে আসত জানতে চাইলে সাব্বির বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জব্দ করা আলামত থেকে এগুলো আনা হয়েছিল বলে তিনি জানতেন। তবে ওই মামলায় কী কী অস্ত্র ছিল, তা তার জানা ছিল না।
জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ বা হত্যা করার নির্দেশ পাওয়ার পর বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে লিখিতভাবে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কি না, আইনজীবী জানতে চান। জবাবে সাব্বির বলেন, তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি। কারণ, তার ভয় ছিল, বিষয়টি জানালে তার পরিণতিও আলকাছ মাঝির মতো হতে পারে।
জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী দাবি করেন, ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজু বাহিনীর সঙ্গে র্যাবের বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হন এবং তাদের মধ্যে আলকাছ মাঝিও ছিলেন। জবাবে সাব্বির বলেন, এই বক্তব্য সত্য নয়।
পরে আইনজীবী দাবি করেন, আলকাছ মাঝি কখনো মাঝি ছিলেন না, তিনি বনদস্যু ছিলেন। এই দাবিও প্রত্যাখ্যান করে সাব্বির বলেন, এটিও সত্য নয়।





































