রাজধানীর মিরপুর-১০ এ অবস্থিত হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ারে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় IVF (In Vitro Fertilization) ও ICSI (Intracytoplasmic Sperm Injection) নিয়ে একটি CME (Continuing Medical Education) কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় গাইনোকোলজি ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা অংশ নেন।
কর্মশালায় IVF ও ICSI-এর মধ্যে পদ্ধতিগত পার্থক্য, রোগী নির্বাচনের বিষয়, কোন পরিস্থিতিতে কোন পদ্ধতি বিবেচনা করা হয় এবং চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে চিকিৎসক ও এমব্রায়োলজি টিমের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ব্যবস্থাপনা, নিষেক এবং ভ্রূণ পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় করেন চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে চেয়ারপারসন হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি (OGSB)-এর নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ সুরাইয়া রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ডা. নিয়াজ টি পারভিন। এছাড়াও ডা. ফারহানা আনাম, ডা. রাবেয়া শাহানাজ ডা. খালেদা নাসরিন, ডা. মেহনাজ, ডা. শুকলা, ডা. জান্নাত আরা ফেরদৌস, ডা. আবুল বাশার, মেজর ডা. সামিনা আহমেদসহ আরও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার মূল আলোচক ছিলেন হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ারের এমব্রায়োলজিস্ট ও সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ডা. মোশতাক আহমেদ, আধুনিক বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় যার ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি IVF ও ICSI-এর নিষেক প্রক্রিয়ার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, IVF-এর ক্ষেত্রে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে ল্যাবরেটরিতে একসঙ্গে রেখে নিষেকের সুযোগ তৈরি করা হয়, অন্যদিকে ICSI পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
কোন রোগীর ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণে শুক্রাণুর মান, ডিম্বাণুর অবস্থা, রোগীর বয়স এবং পূর্বের চিকিৎসার ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ব্যবস্থাপনা, নিষেকের পর ভ্রূণের বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং ICSI-এর ক্ষেত্রে উপযুক্ত শুক্রাণু নির্বাচন ও ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
আলোচনায় ডা. নিয়াজ টি পারভিন রোগীর সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ধাপ নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রতিটি দম্পতির সমস্যা আলাদাভাবে বিবেচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
ডা. খালেদা নাসরিন বন্ধ্যত্বের কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সহায়ক প্রজনন পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পূর্বের চিকিৎসার ফলাফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
ডা. জান্নাত আরা ফেরদৌস রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ ও প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে রোগী ও পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে জানানো প্রয়োজন।
ডা. আবুল বাশার চিকিৎসকদের মধ্যে নিয়মিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের জ্ঞান হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।
মেজর ডা. সামিনা আহমেদ রোগীভেদে পৃথক চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং চিকিৎসক ও এমব্রায়োলজি টিমের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকরা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় রোগীর সঠিক মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন এবং চিকিৎসক ও এমব্রায়োলজি টিমের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।





































