চেতনায় স্বাধীনতা
Advertisements

গাজীপুরে ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ স্মারক ভাস্কর্যের উদ্বোধনের সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন,‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা‌। তাই আমাদের হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। একে ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।’

আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ ভার্চুয়ালি ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ স্মারক ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। গাজীপুর পুলিশ লাইন্সে এই ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে।

আইজিপি আরও বলেন, গাজীপুরের পুলিশ লাইনসে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাস পোড়ামাটির ফলকে তুলে ধরা হয়েছে। আমার বিশ্বাস এটি পুরো গাজীপুরবাসী, তথা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাৎপর্য বহন করবে।

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘হাজার বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমরা কখনো স্বাধীন ছিলাম না। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য পীড়িত অমানিশার অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সমবেত হয়েছিল।’

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতা আমাদের অন্যতম চালিকাশক্তি। একে মূলমন্ত্র হিসেবে ধরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের পথে ধাবমান। সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে বাংলাদেশ ম্যাজিক হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজিসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গাজীপুর প্রান্ত থেকে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

ম্যুরালটির মূল উপজীব্য মাস্তুলসহ একটি নৌকার প্রতিচ্ছবি যা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আটটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক পৃথকভাবে আটটি ফলকে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। নৌকার মাস্তুলের বাঁ দিকের চারটি ফলকে ৫২, ৫৪, ৫৬ ও ৬২ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং ডান দিকের চারটি ফলকে ৬৬, ৬৯, ৭০ ও ৭১ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বিধৃত হয়েছে পোড়া মাটির তৈরি শিল্পকর্মের নান্দনিকতায়।

মাস্তুলের উপরিভাগের পটভূমিতে রয়েছে একটি উদীয়মান লাল সূর্য, লাল সূর্যের বুকে রয়েছে বাংলাদেশের একটি সোনালি মানচিত্র। মানচিত্রের সামনে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুর চার সহযোদ্ধা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামানের আবক্ষ ভাস্কর্য।

Advertisements