ধনে পাতার ঔষধী গুণাগুণ
Advertisements

অসাধারণ পুষ্টিগুনে ভরপুর ধনে পাতা প্রায় সবাই পছন্দ করে। ধনেপাতা একটি সুগন্ধি ঔষধি গাছ। সেই প্রাচীন কাল থেকে রান্নাকৃত খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য মসলা ব্যবহার হয়ে আসছে। ধনে পাতা খাদ্যের স্বাদ ও ঘ্রাণ অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। ধনে শীতকালে চাষ করা হয়। শীত কালে বাজারে গেলে অন্য তরকারীর সাথে খানিক ধনে পাতা কিনতে কেউ বেশ একটা ভুলে যায় না। এই সময়ে বাজারের ফর্দে ধনে পাতার নাম থাকেই থাকে। ধনের আদি নিবাস ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চল হলেও আমাদের দেশের সব এলাকাতেই কম বেশী ধনে চাষ করা হয়। অন্তত ধনে পাতা খাওয়ার জন্য বাড়ির আশপাশে অল্প হলেও ধনে চাষ হয়। ধনে পাতার ঘ্রাণ সবার প্রিয়। আমরা শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই ধনে পাতা খেয়ে থাকি। শীতকাল ছাড়াও রান্নায় সমলা হিসাবে সারা বছরই ধনের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। আমরা ধনে কে মসলা হিসেবে চিনি।

কিন্তু মহান আল্লাহ ধনে সহ প্রত্যেক খাবার, মসলা সব কিছুতেই আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপকার রেখে দিয়েছেন। আমরা যখন যে খাবার গ্রহন করি তার উপকার জানতে পারলে মাওলার শুকরিয়া আদায় করা আরো আমাদের জন্য সহজ হবে । ধনে পাতায় রয়েছে ১১ প্রকার আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় তেল, ৬ প্রকার এ্যাসিড, এলকোহল, তারপিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, ভিটামিন কে, ফসফরাস, প্রোটিন, থায়ামিন, বিরোফ্লাবিন, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ক্লোরিন, জিংক, ক্যালসিয়াম। এতে রয়েছে পলিফেনল ও ফাইটোকেমিকেল যা এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

১। উচ্চ রক্তচাপ: ধনে পাতা ভর্তা করে ২-৩ ঘন্টা পর পর খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকবে।
২। কোলেস্টেরল: ধনে পাতা নিয়মিত খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় এবং ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। যকৃতকে সবল রাখে ফলে হজম শক্তি বেড়ে যায়।
৩। ডায়াবেটিস: ধনে পাতা খাওয়ায় ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিসে উপকার করে।

৪। এলার্জি: ধনে পাতায় এন্টি হিস্টামিন রয়েছে। নিয়মিত ধনে পাতা খেলে এলার্জির থেকে বেঁচে থাকা যায়। আশ্চর্য হলেও সত্য যে আল্লাহ তায়ালা ধনে পাতা শীত কালে দিয়েছেন। আর শীত কালেই এলার্জির সবচেয়ে বেশী প্রভার থাকে। বান্দা যাতে সহজেই এ রোগ থেকে বাঁচতে পারে, আল্লাহ তায়ালা এই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

৫। চোখের রোগ: ধনে পাতায় প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ রয়েছে। যা আমাদের চোখের পুষ্টি জুগিয়ে চোখকে রোগ মুক্ত রাখে। রাত কানা রোগেও ধনে পাতা উপকারী।
৬। অরুচি: ধনে পাতা তরকারীকে সুস্বাদু করে। আর ধনে পাতার চাটনীও খুব সুস্বাদু। ধনে পাতার ভর্তা রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।

৭। কিডনি ভাল রাখতে: প্রতিদিন ধনে পাতার শরবত খেলে কিডনি ভাল থাকে। ধনে পাতায় থাকা উপাদান কিডনিতে জমে থাকা ক্ষতিকর লবন ও বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের সাথ বের করে দিয়ে কিডনিকে রাখে সবল।

৮। মুখে আলসার: ধনে পাতায় থাকা এন্টিসেপটিক মুখের আলসার ভাল করে দেয়।
৯। যৌনশক্তি: মধুর সাথে মিশিয়ে ধনে পাতার চাটনি খেলে প্রাকৃতিক ভাবেই যৌনশক্তি বেড়ে যায়।
১০। মুখের দুর্গন্ধ: মুখে যাদের দুর্গন্ধ হয়, অন্যের সামনে যাওয়া তাদের জন্য খুব বিব্রতকর। কাঁচা ধনে পাতা চিবিয়ে খান মুখের দুর্গন্ধ বিদায় নেবে।

১১। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: ধনে পাতা স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করে। মস্তিস্কের নার্ভকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
১২। রক্তশূন্যতা: ধনে পাতায় থাকা আয়রণ রক্তশূন্যতা দুর করতে সাহায্য করে।
১৩। অর্শ রোগে: অর্শ রোগে ধনে পাতা বেটে রস খেলে অর্শ রোগের রক্ত পড়া বন্ধ হতে সাহায্য করে।
১৪। ঋতুস্রাব: ঋতুস্রাবের সময় স্রাব স্বাভাবিক হওয়ার জন্য ধনে পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে স্রাবের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।

১৪। ক্যান্সার নিরাময়: ধনে পাতায় থাকা উপাদান ফুসফুস ও পাকস্থলীল ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।
১৫। হাড় মজবুত: ধনে পাতা দেহের হাড়কে মুজবুত করে। শরীরের বাত ব্যথা সারায় ধনে পাতা। ধনে পাতা সিদ্ধ করে পানি খেলে বাত রোগে উপকার পাওয়া যায়। ধনে পাতায় এন্টিরিউম্যাটিক ও এন্টি আথ্রাইটিস বিদ্যমান। ধনে পাতা ত্বকের জ¦ালাপোড়া ও ফুলে যাওয়া কমিয়ে দেয়।

১৬। দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া: ধনে পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতেরও উপকার হয়। এমনকি দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। মুখের ভিতরের নরম অংশকে রক্ষা করে। মুখ গহবরের ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। ধনে পাতা চিবিয়ে খেলে দাঁতের মাড়িও শক্ত হয়।
১৭। হজম শক্তি বৃদ্ধি: ধনে পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। পেট ফাঁপা দুর করে। পাকস্থলির বিভিন্ন সমস্যা দুর করে।

১৮। অনিদ্রা: নিয়মিত ধনে পাতা খেলে নিদ্রাহীনতা ও উদ্বেগ উৎকন্ঠা দুর হয়ে যায়।
১৯। এন্টিবায়োটিক ও এন্টি অক্সিডেন্ট: ধনে পাতায় এন্টিবায়োটিক ও এন্টি অক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে। তাই এটা রোগপ্রতিরোধেও সাহায্য করে।
২০। সালমোনেলা রোগ: এই রোগ খাবারের মাধ্যমে সৃষ্ট এক ভয়াবহ রোগ, যাকে সাধারনত টাইফয়েড নামেই সবাই চেনে। ধনে পাতায় থাকা উপাদান এই রোগ সারাতে এন্টিবায়োটিকের সাথে কাজ করে।
২১। বসন্ত: ধনে পাতায় থাকা উপাদান বসন্ত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে।

২২। রূপচর্চা: ধনে পাতা যেমন খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে। তেমনি রূপচর্চায়ও কাজে লাগে। যাদের ঠোটে কালো দাগ আছে। মানুষের সামনে যেতে বিব্রত বোধ করেন। তারা রোজ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ধনে পাতার রসের সাথে দুধের সর মিশিয়ে ঠোটে লাগান। এভাবে একমাস ব্যবহার করলে ঠোটের কাল দাগ দুর হয়ে যাবে। ঠোটও কোমল হবে।

সাবধানতা: ধনে পাতার অনেক গুনাগুন থাকলেও খুব বেশী পরিমাণে একসাথে খাওয়া ঠিক নয়। সব সময় স্বাভাবিক পরিমাণ খাওয়াই উচিত নতুবা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হিতে বিপরিত হতে পারে।

মুন্সি আব্দুল কাদির

Advertisements