গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা লেনদেন সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক স্কুল দপ্তরি। রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কীর্তুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম আরিফ ভূঁইয়া (৩০)। তিনি কীর্তুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ভূঁইয়ার ছেলে এবং বারিষাব ইউনিয়নের ইউসুফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরি) ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আরিফ স্কুলে যাওয়ার পথে পেছন থেকে অতর্কিতভাবে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে একই গ্রামের সিএনজি চালক আসাদুল্লাহ (৩৫)। একাধিক ছুরিকাঘাতে আরিফ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘাতক আসাদুল্লাহকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আরিফ ও ঘাতক আসাদুল্লাহর মধ্যে আগে থেকেই সিএনজি অটোরিকশা লেনদেন নিয়ে আর্থিক বিরোধ ছিল। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, সেই লেনদেন ঘিরেই হত্যার পরিকল্পনা করে আসাদুল্লাহ।
“সিএনজির টাকার লেনদেন নিয়ে আরিফ ও আসাদুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আমরা ধারণা করছি, এ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘাতককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
নিহতের চাচাতো ভাই ইয়াসিন ভূঁইয়া বলেন, “আসাদুল্লাহ একটি ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। আরিফ মাটিতে পড়ে যায়। পরে আমি ও এলাকাবাসী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু সে আর বাঁচেনি।”
নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আরিফ যুবদলের বারিষাব ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়ন।
তিনি বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কি না, সেটিও আমাদের ভাবনার বিষয়। দলীয়ভাবে আমরা ঘটনার বিচার দাবি করছি।”
উল্লেখ্য, কাপাসিয়া উপজেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৭ মাসে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন সহিংস ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।





































