দলবদল নিয়ে বেশি আলোচনা হলে তা রসিকতায় গড়ায়। নেইমারের বার্সেলোনায় ফেরার বিষয়টি এখন অনেকের কাছেই এমন। কিলিয়ান এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়াও পিছিয়ে নেই। ২০১৭ সালে নেইমার বার্সা ছেড়ে পিএসজিতে আসার পর থেকেই তো কথা উঠছে, ক্যাম্প ন্যু তে ফিরছেন কবে? এমবাপ্পেকে নিয়ে দলবদলের আলোচনা নেইমারের মতো না হলেও কয়েক দিন পরপরই গুঞ্জন ওঠে, অমুক ক্লাব কিংবা তমুক ক্লাবে যোগ দিতে পারেন ফরাসি তারকা। আর নেইমারের বিষয়টি যেন পিএসজির প্রতি ম্যাচ শেষেই ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে হাসি তামাশাও কম হয় না।
কিন্তু পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি ঠাট্টার পাত্র নন। অন্তত ক্লাবের শীর্ষ দুই তারকার দলবদল নিয়ে তাঁর মশকরা করার প্রশ্নই ওঠে না। কাল চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পর এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সোজা কথাটা সোজা করেই বলে দেন খেলাইফি। ঠিকই ধরেছেন। আবারও নেইমার-এমবাপ্পের দলবদল নিয়ে কথা উঠেছিল। খেলাইফির কথা শুনলে অবশ্য মনে হবে দুই তারকার এই দলবদলের প্রসঙ্গ শুধু কথার কথাই। পিএসজির জায়গা থেকে দেখলে বাস্তবতার লেশমাত্র নেই! কারণ পিএসজি সভাপতি কাল খেলা শেষে বলে দিয়েছেন, নেইমার ও এমবাপ্পে ক্যারিয়ারের বাকি সময় এখানেই (পিএসজি) কাটাবেন।
আতালান্তা এবার অভিষিক্ত হলেও শক্ত প্রতিপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে শেষ মিনিটের আগ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা তারই প্রমাণ। কিন্তু বড় দলগুলো যেভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, পিএসজিকে সেভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন নেইমার-এমবাপ্পে। মার্কুইনহোসকে দিয়ে সমতাসূচক গোলটি করিয়েছেন নেইমার। আর যোগ করা সময়ে এরিক চৌপো মোটিংয়ের জয়সূচক গোলটির উৎস এমবাপ্পে। এ জয়ে খেলাইফির খুশি হওয়াই স্বাভাবিক। ফরাসি ক্লাবটি কাতারি পেট্রো ডলারের অধীনে আসার পর থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়কে মোক্ষধাম করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনাল টপকাতে পারেনি তারা। নেইমার-এমবাপ্পে কাল এই অচলায়তন ভেঙে ফেলার আনন্দেই সম্ভবত তাদের দলবদল নিয়ে কথা বলেছেন কাতারের এ ব্যবসায়ী।
আরএমসি স্পোর্টসকে খেলাইফি বলেন, ‘নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম। নেইমার অসাধারণ খেললেও গোটা দলই দুর্দান্ত খেলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সে (নেইমার) দলের মধ্যে নিজেকে পাল্টেছে। তারা দুজনেই থাকবে। সে ও কিলিয়ান কখনো (পিএসজি) ছাড়বে না। পিএসজিতেই থাকবে।’ নেইমারকে ক্যাম্প ন্যু তে ফেরাতে অনেক চেষ্টাই করেছে বার্সা। এখনো এ নিয়ে গুঞ্জন আছে বাজারে। রিয়াল মাদ্রিদও কম সময় হয়নি এমবাপ্পের পেছনে লেগে আছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে ওঠার পর মনের ক্ষোভও ঝেড়েছেন পিএসজি সভাপতি, ‘সবাই বলে প্যারিস (পিএসজি) চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে প্রস্তুত নয়। কিন্তু আমরা আজ (কাল রাতে) দুর্দান্ত মানসিকতা দেখিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়। তবে আপাতত সেমিফাইনাল নিয়েই ভাবছি। সংবাদমাধ্যম থেকে সবাই পিএসজির সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এগিয়ে যেতে এই জয়টা দরকার ছিল।’





































