রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণদের। শ্রম রপ্তানির নামে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের সেনাবাহিনীতে যুক্ত করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, স্থানীয় দালালরা আগে বিদেশে চাকরির লোভ দেখায়, পরে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায়। পৌঁছার পরই জানা যায়, গন্তব্য কোনো কোম্পানির কাজ নয়, বরং যুদ্ধের ময়দান। ইতোমধ্যে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন নথি ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যা বিজয় ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ১৩৩৪), এসপি গ্লোবাল রিসোর্স (আরএল ২২৫৩), ম্যানিজ পাওয়ার করপোরেশন (আরএল ৯৭৩) ও ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন রিক্রুটমেন্ট লিমিটেড—এই চারটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। এক থেকে দেড় লাখ টাকা বেতনের আশ্বাসে ৫ থেকে ১১ লাখ টাকার চুক্তিতে যুবকদের পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের ‘সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ রাশিয়া এলএলসি’ নামের একটি চীনা প্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাদের সেনা প্রশিক্ষণে পাঠানো হয় এবং পরে ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার মনিরুল ইসলাম, গাজীপুরের অয়ন মণ্ডল, চট্টগ্রামের অমিত বড়ুয়া, লক্ষ্মীপুরের সাজ্জাদ হোসেন ও ময়মনসিংহের মহসিন আহমদসহ অন্তত ১০ জনের কোনো খোঁজ নেই বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। কারও সর্বশেষ বার্তায় এসেছে যুদ্ধক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কার কথা, কারও ক্ষেত্রে সহযোদ্ধার ভয়েস মেসেজে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার বলছে, স্থানীয় দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন, তাদের স্বজনদের সরাসরি সেনাবাহিনীতে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে এসপি গ্লোবাল রিসোর্সের এক কর্মকর্তা আজাদ বলেন, “আমরা মালয়েশিয়া নিয়ে কাজ করি। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করলে আমরা দায়ী নই।” বন্যা বিজয় ওভারসিজের ম্যানেজার আকিব ইসলাম বলেন, “আমরা কাউকে সেনাবাহিনীতে পাঠাইনি। কেউ নিজে থেকে যোগ দিলে সেটি আমাদের দায়িত্ব নয়।”
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, “ভালো বেতনের লোভ দেখিয়ে শ্রমিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ভয়াবহ অপরাধ। এটি এখন রাশিয়ায় যেমন হচ্ছে, আফ্রিকার কিছু দেশেও দেখা যাচ্ছে। সরকারকে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে সরকারকে রাশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। পরিবারগুলো যেন অন্তত জানতে পারে তাদের প্রিয়জন জীবিত না মৃত।”
এ বিষয়ে জানতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।





































