মানবতাবিরোধী গুম মামলা
Advertisements

মানবতাবিরোধী গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হেফাজতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সকাল সোয়া ৭টার দিকে তারা হাজির হলে পুলিশ তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেয়। এরপর শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো সেনা কর্মকর্তারা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে সংঘটিত গুম-খুন এবং জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় এই সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে ১৭ জন, আরেকটিতে ১৩ জন এবং অপরটিতে ৪ জনের নাম রয়েছে। দুটি মামলায় শেখ হাসিনার নামও অন্তর্ভুক্ত।

২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে হেফাজতে আছেন। গুমের অভিযোগে করা দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর এবং রামপুরায় গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

Advertisements