রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কলেজের গোল চত্বরে জড়ো হয়ে তারা এই বিক্ষোভ শুরু করেন। নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা “আমাদের প্রাণের দায় কে নেবে?”, “নিরাপদ আকাশ চাই”, “দায়ী কারা—জবাব চাই” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও যদি সঠিক তথ্য প্রকাশ না করা হয়, তাহলে এটি হবে ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবমাননা।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি- ১. দুর্ঘটনায় নিহতদের সঠিক নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। ২. আহতদের নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ৩. ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের গায়ে সেনাসদস্যদের ‘হাত তোলার’ অভিযোগে নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৫. বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল করে নতুন ও নিরাপদ প্লেন চালু করতে হবে। ৬. বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ এলাকা মানবিক ও নিরাপদভাবে পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুল ভবনে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা।
এ ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন স্কুলের শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলটও প্রাণ হারিয়েছেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণে মঙ্গলবার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।





































