র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গুমে জড়িত কর্মকর্তাদের শুধু প্রশ্রয়ই দেননি, তাদের প্রশংসাও করেছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে গুম কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে। সোমবার (২৩ জুন) গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত হওয়া এই অধ্যায়ে বলা হয়, গুমের ঘটনাগুলো ছিল না কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ; বরং তা ছিল পরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব পালনকালে র্যাবে কর্মরত এক কর্মকর্তার বিষয়ে লিখেছিলেন—তিনি “স্বউদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করেছেন” এবং “তার কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক, নেতৃত্ব উচ্চমানের।” অথচ ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই রয়েছে গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার পদে কর্মরত।
কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুমের এসব ঘটনা কোনো ব্যক্তি বা ইউনিটের একক দায় নয়। বরং সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হলেও কোনো নথিপত্রেই ‘গুম’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি—যা দায়মুক্তির সংস্কৃতিরই ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনামলে শিক্ষার্থী ও তরুণসহ বহু নাগরিককে গুম করার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে দীর্ঘদিন গোপন স্থানে আটক থাকার পর বেঁচে ফিরে আসলেও, তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিবরণ হৃদয়বিদারক। তুলে ধরা হয়েছে ডিজিএফআই, র্যাব ও সিটিটিসির গোপন আস্তানাগুলোর কথাও—যেখানে বন্দিদের দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
কমিশন বলছে, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেক কর্মকর্তা হয়েছিলেন চাপের মুখে বাধ্য, আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় এসব অপরাধে অংশ নিয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সরকার পরিবর্তনের পরও দায়মুক্তির সংস্কৃতি বহাল রয়েছে। পূর্ববর্তী কাঠামো এখনও অনেক ক্ষেত্রে অক্ষত রয়ে গেছে।গুম কমিশনের এই প্রতিবেদন বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।





































