এক যুগ আগে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গুম হওয়া সুখরঞ্জন বালি এবার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।
অভিযোগে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এটিএম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন, সাবেক এমপি এ কে এম আউয়াল, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, সাবেক প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত, তদন্ত সংস্থার সাবেক প্রধান সানাউল হকসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
সুখরঞ্জন বালি অভিযোগে বলেন, ১৯৭১ সালে তার ভাই বিশেশ্বর বালি পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত হন। পরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন তাকে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন এবং অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা তাকে হুমকি ও মারধর করে।
তিনি জানান, সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় এসে ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল চত্বরে প্রবেশের সময় পুলিশ ও সাদা পোশাকধারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রায় দুই মাস গোপন স্থানে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। সেখানে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হলেও তিনি রাজি হননি।
এরপর তাকে ভারতের সীমান্তে হস্তান্তর করা হয়। বিএসএফের হাতে নির্যাতনের পর তাকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে পাঁচ বছর আটক রাখা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এবং ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান।
দেশে ফিরে আত্মগোপনে থাকা বালি অভিযোগ করেন, তাকে গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও ভারতে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছিল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। তিনি দাবি করেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ছিল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আমাকে অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও পাচার করা হয়েছে। আমার মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সূত্র: বাসস





































