পাকিস্তান সফরে সাবেক মুজাহিদ নেতা
Advertisements

আফগানিস্তানের হেজবে ইসলামির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদ যাচ্ছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যেপ্রচেষ্টা চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই সফরে আসছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার ইসলামাবাদে পৌছানোর কথা রয়েছে।

মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান সরকারের পিস কাউন্সিলের প্রধান ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক সফরের পর আফগানিস্তানে এটা দ্বিতীয় উচ্চ-পর্যায়ের সফর।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই সফরে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, সিনেট চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করবেন। তিনি একটি পলিসি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন এবং মিডিয়ার সাথে মতবিনিময় করবেন”।

এতে আরও বলা হয়েছে, হেকমতিয়ারের এই সফরে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মত বিনিময়, এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিনিময় বাড়ানোর একটা সুযোগ তৈরি হবে।

এতে বলা হয়েছে, “আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ককে অনেক গুরুত্বের সাথে দেখে পাকিস্তান, যে সম্পর্কের শিকড় রয়েছে ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ আর ঐতিহ্যের মধ্যে। আফগান জনগণের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের সব প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন করে পাকিস্তান”।

পররাষ্ট্র অফিস বলেছে যে, পাকিস্তান সবসময় আফগানদের নেতৃত্বে এবং আফগানদের কর্তৃত্বাধীন অন্তর্ভুক্তিমুলক, ব্যাপক-ভিত্তিক এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এসেছে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার একজন মুজাহিদ নেতা ছিলেন, যিনি আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েন ইউনিয়নের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। নব্বইয়ের দশকে আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০১ সালে আমেরিকার হাতে তালেবান সরকারের পতনের পর মার্কিন-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন হেকমতিয়ার। কিন্তু ২০১৬ সালে তিনি মার্কিন মদদপুষ্ট আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সাথে শান্তি চুক্তি করেন এবং এর মাধ্যমে তার ২০ বছরের নির্বাসন ও প্রতিরোধের অবসান ঘটে।

তার সফর সম্পর্কে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন যে, আফগানিস্তানের সকল রাজনৈতিক পক্ষ এবং খেলোয়াড়দের সাথে বিনিময়ের যে প্রচেষ্টা নিয়েছে ইসলামাবাদ, তারই অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের পছন্দের কেউ এখানে নেই এবং আফগানিস্তানের জনগণ আফগান-অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত নেবে, পাকিস্তান সেটাকেই সমর্থন করবে।

বর্তমানে দোহাতে আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষ আলোচনার এজেন্ডা এবং সংলাপের শর্তাদি নিয়ে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

Advertisements