
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়োগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আপত্তি জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) প্রকাশিত ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “সেনাপ্রধানের প্রধান আপত্তি ছিল—ড. ইউনূস কেন? কেন অন্য কেউ নয়? একজন দণ্ডিত ব্যক্তি কীভাবে দেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন?”
তিনি আরও জানান, সেনাপ্রধান শেষ পর্যন্ত “বুকে পাথর চাপা দিয়ে” এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, “একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে।” তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে যাবে এবং দলটিকে নিষিদ্ধ করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, ১১ মার্চ ক্যান্টনমেন্টে একটি বৈঠকে তাদের কাছে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। তার ভাষ্যমতে, সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন চৌধুরী ও শেখ ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের একটি নতুন সংস্করণ তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে।
“আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের এই প্রস্তাবে রাজি হই। বলা হয়, কিছু বিরোধী দল শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।”—বলেন হাসনাত।
তবে তিনি ও তার সহযোগীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
হাসনাত জানান, আলোচনার এক পর্যায়ে তাদের বলা হয়, “আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়।”
এ সময় তিনি জবাবে বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো অন্তর্ভুক্তি হতে পারে না। তাদের ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে আনতে হবে। যদি ফেরানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বৈঠক অসমাপ্ত রেখেই তারা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসেন।
পোস্টের শেষে হাসনাত লেখেন, “এই পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। হয়তো নানামুখী চাপে পড়তে হবে, বিপদে পড়তে পারি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যদি রাজপথে আপনাদের সমর্থন পাই, তাহলে আবারও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারব।”