টিসিবির কার্ড থেকে ঘুষ
Advertisements

দরিদ্রদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করে ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি), যা বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পরিচালিত হয়। সম্প্রতি শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নে টিসিবির পণ্যের সরকারি কার্ড থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধি কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে। তিনি ৭,৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য।

রোববার (২৭ মার্চ) ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামে এ মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

এর আগে গাজীপুর গ্রামের মফিজউদ্দিনের ছেলে রুবেল (২২), সোহাগ (২০) ও একই এলাকার জালাল (৪৫), হুমায়ুন (৪০) সাংবাদিকদের বলেন, টিসিবির কার্ডের জন্য কামরুন্নাহারের নির্দেশে আজাহারের মাধ্যমে আমাদের থেকে ১২০ টাকা করে নিয়েছে। আমরা তখন জানতাম না যে, সরকার ফ্রী কার্ড দিচ্ছে। আমাদেরকে বোকা বানিয়ে মিথ্যা কথা বলে ঘুষ নিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই।

একই ইউনিয়নের নিজমাওনা গ্রামের সুলতানের স্ত্রী রমেছা (৫৫), স্বপন মিয়ার স্ত্রী নুরুন্নাহার (৪০), সালামের স্ত্রী মল্লিকা (৫০), হাবিবুরের স্ত্রী নুরহাজান (৩০), ফরিদ মিয়ার স্ত্রী লিপি (৩৫) বলেন, আমাদের মিথ্যা বলে টাকা নিয়েছে কামরুন্নাহার সাঈদ। আমরা তার বিচার চাই।

এছাড়াও নিজ মাওনা গ্রামের খোদেজা (৬০) বলেন, আমি নিজের হাতে মহিলা মেম্বার কামরুন্নাহারকে দুইজনের কার্ডের জন্য ২০০ টাকা দিয়েছি। বলেছে টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে হলে এই টাকা দিতেই হবে।

এ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক লাইভ করেন স্থানীয় এক সংবাদকর্মী। পরে ‘Mojahid Activities’ নামক ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে অভিযুক্তরা ভিডিও ডিলিট করার জন্য বিভিন্নভাবে অনুরোধ করে ব্যর্থ হোন। পরে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাদবর তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, কামরুন্নাহার তিনবার নির্বাচন করে দুই কোটি টাকা খরচ করেছে। সে ১০০ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার মতো মানুষ নয়, ভিডিওটা ডিলিট করে আমার বাড়িতে চা’য়ের দাওয়াত রাখবেন।

ওই মানববন্ধনে এলাকাবাসী কামরুন্নাহার চন্দনা ওরফে কামরুন্নাহার সাঈদের বিচারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান তুলে বলেন, ‘বিচার চাই বিচার চাই, কামরুন্নাহারের চাই’।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুন্নাহার সাঈদ বলেন, ‘আমি কোনও টাকা নিইনি, আমি বিনামূল্যে টিসিবির কার্ড দিয়েছি’।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলামকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অবগত করার পর বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। তবে মানববন্ধনের বিষয়ে জানার জন্য ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

Advertisements