২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট পুলিশের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ৫ আগস্ট ভোরে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশ দেন। নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠে নামেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত কমিশনার শাহ আলম আখতারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল ও পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন।
পাঁচ কর্মকর্তার নির্দেশে কনস্টেবল সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের ওপর চায়নিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালান।
গুলিতে নিহত হন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া।
মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি—পরিদর্শক আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল সুজন, ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল ইসলাম—সোমবার আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
পলাতক রয়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম এবং সহকারী কমিশনার ইমরুল। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ১১ আগস্ট। তার আগে ১০ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, ৬টি মৃত্যুসনদ ও বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।





































