গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও টানা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম কবির এবং তার সহকর্মীদের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার টোক নগর গ্রামে শফিকুল ইসলাম কবিরের নিজ বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম কবির অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার এবং তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাজরাতুল ইসলাম রাফি সরকার তার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তার পোস্টার, বিলবোর্ড ও তোরণ ভাঙচুর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ১৭ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টোক নয়ন বাজার এলাকার সাদেকের হার্ডওয়্যার দোকানে অবস্থানকালে আব্দুর রশিদ ও সাজরাতুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শ্রীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা সোহেল তালুকদার, নূরুল আমিন, রাজিব, এরশাদ, ফুয়াদ আহমেদ তনয়, মঞ্জু ও সাদেকসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সোহেল তালুকদারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার ডান হাত ভেঙে যায়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শফিকুল ইসলাম কবির আরও অভিযোগ করেন, হামলার একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা, ব্যাংকের চেক বই ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে হয়রানি করে আসছে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর একটি পক্ষ তাকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ আখ্যা দিয়ে চাঁদা দাবি শুরু করে। তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, “শফিকুল ইসলাম কবির টোক ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। গত ১৭ মে গভীর রাতে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। বাজারের ইজারাদার হিসেবে আমি তাদের বাজার থেকে চলে যেতে বলেছি মাত্র। কোনো মারামারি বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।”
এ ঘটনায় গত ১৮ মে শফিকুল ইসলাম কবির বাদী হয়ে আব্দুর রশিদ সরকার, সাজরাতুল ইসলাম রাফিসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
টোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “গত ১৭ মে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম কবির প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানান। একইসঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে এ ঘটনার পর পুরো টোক ইউনিয়ন এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।





































