তাইওয়ানকে
Advertisements

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া ভাষণে স্বীকার করেছেন, আল কায়দা সন্ত্রাসীরা হয়তো আফগানিস্তানে ফিরে আসতে পারে। একইসঙ্গে তিনি এও বলেছেন, কোথাও আল কায়দার উপস্থিতি থাকলেই সেখানে সেনা মোতায়েন করতে হবে এমন নীতি থেকে সরে এসেছে ওয়াশিংটন।

আল কায়দা সন্ত্রাসীরা কি আবারো আফগানিস্তানে ফিরে আসতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, হ্যাঁ তারা ফিরে আসতে পারে। তিনি আবারো আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়ে বলেছেন তার এ সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীর প্রাক্কালে কংগ্রেসে পাঠানো চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার মেয়াদ আরো এক বছরের জন্য নবায়ন করেছেন। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নবায়নের এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। এ থেকে বোঝা যায় মার্কিন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা এখনো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে ওই দেশ দুটি দখল করে নেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তথাকথিত ওই যুদ্ধে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে এ পর্যন্ত দশ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন শুধু যে আল কায়দার টিকে থাকার কথা স্বীকার করেছেন তাই নয় তাদেরকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথাও অকপটে তিনি স্বীকার করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভালো করেই জানেন যে তারা আল কায়দার ওপর যতই আঘাত হানুক এমনকি ওবামার শাসনামলে ওসামা বিন দালেনকে হত্যার পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আল কায়দার বিস্তার ঘটেছে। এ থেকে বোঝা যায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত যুদ্ধ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, পাকিস্তান, ইয়েমেন, আফ্রিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ঘটনাবলীই এর প্রমাণ। খ্যাতনামা লেখক ড্যানিয়েল বেঞ্জামিন ও স্টিভেন সাইমন এক যৌথ নিবন্ধে লিখেছেন, ‘আফগানিস্তানে মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতন এবং ফের আল কায়দাসহ অন্যান্য উগ্রপন্থীদের ক্ষমতা গ্রহণের মতো দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। আফগানিস্তানে গত দুই দশকে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনো কাজেই আসেনি’।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে আনার পক্ষে ব্যাপক সাফাই গাইলেও এবং সবার প্রশংসা কুড়ানোর চেষ্টা করলেও চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবতা হচ্ছে আফগানিস্তানে অব্যাহত গোলযোগ, মার্কিন সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়া এবং শেষ পর্যন্ত তালেবান দেশের ক্ষমতা নেয়ার পর মার্কিনীরা তড়িঘড়ি করে সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

বর্তমানে তালেবান ফের ক্ষমতায় আসায় আল কায়দা ও আইএস জঙ্গিসহ অন্যান্য উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানকে তাদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র বলে ভাবছে যা কিনা অন্য সব দেশের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এ কারণে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতারা সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ফের পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

পার্সটুডে

Advertisements