জঙ্গি পুতুল
Advertisements

কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে শেখ আল আমিনের নাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতীতে জঙ্গিবাদের নামে সাজানো বিভিন্ন ঘটনায় তাকে ব্যবহার করা হতো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি নাটকের’ কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে তাকে সামনে আনা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, শেখ আল আমিন বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা এবং তার পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থক। বোমা তৈরিতে পারদর্শী হওয়ায় এলাকায় সে ‘বোমারু আল আমিন’ নামে পরিচিত ছিল। এই পরিচিতির কারণেই তাকে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি কার্যক্রমের নাটকে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা হয়। এর মধ্যে চারটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থিত উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসাটি চার কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবনে পরিচালিত হতো। দুটি কক্ষে শিশুদের আরবি শিক্ষা দেওয়া হতো, একটি কক্ষে আল আমিন স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ বসবাস করতেন এবং অপর একটি কক্ষে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম মজুদ ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার ভেতরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায়, ছাদ ও বীমে ফাটল ধরে। পাশের একটি আবাসিক ভবনের নিচতলার দেয়ালেও ফাটল দেখা দেয়। মাদ্রাসা ছুটি থাকায় ওই সময় সেখানে পড়তে আসা ২৫–৩০ জন শিশু অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়।

বিস্ফোরণে আল আমিনের দুই ছেলে—উমায়ের (১০) ও আব্দুর রহমান (২) আহত হয়। পুলিশ জানায়, আল আমিন আহত সন্তানদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। মামলায় শেখ আল আমিনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬–৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযান চালিয়ে আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া খাতুনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছে।

ভবনের মালিক পারভীন বেগম জানান, ২০২২ সালে আর্থিক সংকটের কারণে ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। পরে হারুনুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাসাভাড়া নেওয়ার কথা বলে আসেন এবং শিশুদের আরবি শিক্ষা দেওয়ার কথা জানালে সওয়াবের আশায় মাত্র ১০ হাজার টাকায় কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়ার সময় কোনো সন্দেহজনক সরঞ্জাম তিনি দেখেননি বলে জানান।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তরিকুল ইসলাম বলেন, আল আমিন তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ভবনের কক্ষগুলো ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার আড়ালে সেখানে বসবাস করছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব মজুদ করা হয়েছিল।

পলাতক আসামি শেখ আল আমিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisements