সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন - আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন - সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ
Advertisements

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ও জেলহত্যার পর যখন স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এমনকি দেশ নিয়ে যেকোনো রূপে কোনো কথা উচ্চারণ নিষিদ্ধ প্রায়, সেই সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মী, সেখান থেকে নিজের মেধা, যোগ্যতা ও নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় কাণ্ডারী হয়ে হাল ধরেছিলেন দলের।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যও ছিলেন তিনি।

তিনি ১৯৩২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার সান্নিধ্যে কিশোরী বয়স থেকেই সমাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন।

১৯৬৮ সালে গঠিত রাজবন্দি সাহায্য কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি একজন সংগঠক হিসেবে ভূমিকা রাখেন।

১৯৭৭ সালে তিনি দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। সেই সময় সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেন।দলে ঐক্য ফেরানোর তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এক অনিবার্য পরিণতির মতই যেন কাণ্ডারী হয়ে ১৯৮১ সালে স্বজনের রক্তেভেজা দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলে আসলে, তাকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়।সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

বয়সকে বাধা মানেননি, দলকে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানের যোগ্য করে তুলতে গভীর মমতায় পাশে থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে সহযোগিতা করে গেছেন তিনি। সংকটে জুগিয়ে গেছেন এগিয়ে যাওয়ার সাহস।

২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করেছেন একমাত্র ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন :ডিসেম্বর ২০ ২০২০ ,
আজ আমার মা সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৭৫ এর ১৫ই অগাস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করার পর এবং ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার পর যখন দেশ ও জাতি দিশেহারা ঠিক তখন এই মহিয়সী নারী ঝাঁপিয়ে পড়েন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠার জন্য । আর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড গুলোর বিচারের দাবিতে আমার স্মৃতিতে সেই দিনগুলো এখনো সংরক্ষিত হয়ে আছে- সেই দিনগুলো যখন আমার মা ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে- টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া অনেক সময় আমাকে সাথে নিয়ে যেতেন বিভিন্ন মিটিং আর অনুষ্ঠানে আমার মাকে বলতে শুনতাম “আমি আমার স্বামীকে হারিয়েছি, আমার সন্তানেরা এতিম হয়েছে কিন্তু জাতি হারিয়েছে বঙ্গবন্ধুকে আর জাতীয় চার নেতাকে, আমার ক্ষতির চে জাতির অনেক বরো ক্ষতি হয়ে গেলো আর তাই আজ আমি আমার রক্তে মাখা আঁচল নিয়ে আপনাদের কাছে বিচার দিয়ে গেলাম” ।

লেখকঃ শামসাদুল আলম নাঈম

Advertisements