ভ্যালেন্টাইন-ডে-যৌনতা-যখন-পুঁজিবাদি-হাতিয়ার

রোজ ডে, প্রপোজ ডে, চকলেড ডে, ভ্যালেন্টাইন ডে…
ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে প্রতিটি তারিখই কোন না কোন দিবসে আটকে আছে। আল্লাহর অবাধ্যতায় কাটে এই দিবসগুলি। পার্থিব ভোগ-বিলাস আর কুপ্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে মত্ত থাকে তরুণ-তরুণী। দুনিয়াতে এই সাময়িক-সামান্য স্বাদ লাভের পর তাদের অনুভূতিটা হয়ত অনেক সুখকর হয়। কিন্তু এসব “ডে” এর ক্ষণিকের আনন্দটুকু যে তাদেরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক ভয়ংকর “ডে” এর মর্মান্তিক ফায়সালার দিকে- সেই অনুভূতি কি তাদের জাগ্রত হয়?

এতো এতো ” ডে ” এর মধ্য দিয়ে আমরা কি “জাজমেন্ট ডে” তথা বিচার দিবসকে ভুলে যাচ্ছি! দুনিয়ার এসব দিবসে যেই শয়তানের প্ররোচনায় লিপ্ত হচ্ছি মহান রবের অবাধ্যতায়, সেই শয়তান কি “বিচার দিবস” এ আমাদের সাথী হবে? অনিশ্চিত পরিণামের সেই দিনটিতে সে কি আমাদের জন্য সুপরিণাম নিয়ে আসবে? নাকি অভিযোগের সব তীরগুলো আমাদের দিকেই ছুড়বে?

ভ্যালেন্টাইন ডে

প্রতিবছর ভ্যালেন্টাইন দিবসকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন কোম্পানি আর রেস্টুরেন্টগুলো বিশেষ অফার ঘোষণা করে। হোটেলগুলোতে কাপলদের জন্য বিশেষ রুমের ব্যবস্থা, বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা সহ নানা ধরণের ক্যাম্পেইন চলে হারাম রিলেশনকে ঘিরে। অন্য দিকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয় কাছে আসার গল্প নিয়ে অসংখ্য এড ও সিনেমা।

১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ঘিরে যত আয়োজন, এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্মক প্রচারণা হল এইগুলা। যেখানে মহান আল্লাহ তা’য়ালা যিনার ধারেকাছেও যেতে নিষেধ করেছেন, সেখানে সমাজের মেইনস্ট্রিম থেকেও এই ধরণের প্রচারণাগুলো আসছে। জাহেলী এই সমাজে যিনা কতটা পবিত্র, সহজলভ্য এবং স্বাভাবিক হয়ে গেছে, এই চিত্রগুলো তারই পরিমাপের দিকে নির্দেশ করছে।

মূলত আধুনিক সময়ে যৌনতা পুঁজিবাদীদের প্রধান একটি হাতিয়ার। এর মাধ্যমে তারা যেমন কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেয়। তেমনিভাবে একটি জাতির মূল স্প্রিডকে যৌনতার জালে আটকে ফেলে। তখন সেই জাতি মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে। তারা তখন পুঁজিবাদীদের অন্যায় ও জুলুমগুলোকে অনুধাবন করতে পারে না। হারিয়ে ফেলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার চিন্তাশক্তি।

এই যে হারাম একটি উপলক্ষ্যকে ঘিরে যিনা-ব্যাভিচার, অশ্লিলতা- বেহায়াপনার এতো এতো ক্যাম্পেইন, আয়োজন এবং প্রচারণা, এর পিছনে আইডিয়া ও ডিসিশন মেকার হিসেবে তারাই কাজ করছে যারা দিহান-আনুশকাদের নিয়ে মেকি অস্থিরতা প্রকাশ করে এবং মিডিয়া গরম করে তোলে। যারা যৌন সংযমতার পরিবর্তে উত্তেজনাকর যৌন শিক্ষার দাবি তুলে। যারা ফ্রি মিক্সিংকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নারী সমাজের উন্নতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে।

যারা কাছে আসার গল্প তৈরির জন্য তরুণ-তরুণীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে, এর আড়ালে তারা কিন্তু আরো কিছু চিত্রের আবিষ্কার করছে। ডাস্টবিনে, নালা-নর্দমায় পরে থাকা, কুকুরের মুখে নবজাতক শিশুর লাশের চিত্র, গর্ভপাতের মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার নিষ্পাপ বাচ্চার হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান, দিহান-আনুশকাদের নির্মম গল্পের মেকারও কিন্তু তারাই।

অশ্লিলতার এমন অবাধ প্রচারণায় আপনি কিভাবে সমাজকে নিরাপদ রাখবেন? যারা এমন প্রচারণায় লিপ্ত তাদেরকেই আপনি সমাজ ও সংস্কৃতির রক্ষক ভেবে বসে আছেন। তাদেরকেই আপনি কালচারাল মডেল হিসেবে বিশ্বাস করছেন। অথচ আপনার রব তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন,
যারা চায় যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লিলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। (সূরা নুর, আয়াত-১৯)

সত্য হলো, ফেব্রিয়ারি মাস অনেকটাই যিনার মাস হয়ে গিয়েছে। এই মাস এলেই কোম্পানিগুলো যিনা ব্যভিচারের কারবার শুরু করে দেয়। ওদের দরকার কোনো একটা উপলক্ষ্য। সেটা হারাম হচ্ছে কিনা সেদিকে কারও ভ্রূক্ষেপ নেই। আর প্রতি বছর মুসলিম ভাইবোনদের এত এত সতর্কতা, এত প্রচেষ্টার পরও এইসব কোম্পানিগুলো দম্ভভরে পরের বছর একই কাজে লিপ্ত হয়। কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ভ্রূক্ষেপের চিন্তাও নেই।

কোম্পানিগুলোর এই যে যিনা ব্যভিচার প্রমোট করা সব ক্যাম্পেইন – এই ক্যাম্পেইনগুলোর আইডিয়া জেনারেশন, ডিসিশন মেকিং থেকে শুরু করে এক্সিকিউশন পর্যন্ত যারাই কাজ করে, এরা কিন্তু নিজেদেরকে মুসলিমই দাবিই করে। এইসব কর্মীদেরকে টার্গেট করে আলিমদের সম্মিলিত ফাতওয়া এলে উত্তম হতো। তাছাড়া আজকালের যুবক যুবতীদের বেশিরভাগই এখনও বিয়ের আগের প্রেম ভালবাসার মতো স্পষ্ট হারামকে শুধু হালালই না, অনেকক্ষেত্রে পবিত্রও মনে করে। অথচ স্পষ্ট হারামকে যারা হালাল মনে করে, তাদের ঈমানের দাবি তো ধোপে টেকে না।

যৌনশিক্ষার মূল উপাদান

মূলত এটাই সেকুলার ও নারীবাদী যৌনশিক্ষার মূল উপাদান। অবৈধ যৌন মেলামেশাকে বন্ধ করে পবিত্রতম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের পুরো যৌনশিক্ষা আটকে আছে কথিত এই বেলুন ও গর্ভাধিকারের মাঝে। অবৈধ যৌনমিলনে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণই সেকুলার যৌনশিক্ষার মূল আবেদন। ফলে এই যৌনশিক্ষার ৮০℅ আলাপই হয় বেলুন ব্যবহার আর গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে। এর সাথে থাকে কথিত বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রচারণা, জেন্ডার সমতা, জন্মনিয়ন্ত্রন আর পিরিয়ড নিয়ে আলোচনা। নামে মাত্র স্বাস্থ্য সচেতনা সংক্রান্ত আলাপ থাকে।

ভ্যালেন্টাইন দিবস ভালবাসার না, যৌনতার দিবস। তারা যেটাকে সুরক্ষিত ভালবাসা বলছে সেটাকে আপনার রব যিনা বলে আখ্যায়িত করছে। আপনার রব যেমন আপনাকে তাঁর ইবাদাত করতে শেখায় তেমনি শেখায় ভালোবাসতে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু সেই ভালোবাসা তো কাফের ও বেজাতিদের সজ্ঞায়িত ভালোবাসা না, সেই ভালোবাসা বেগানা নারী-পুরুষের সাথে একাকি নির্জনতা নয়, সে ভালোবাসা মানে তো ড্রেনে পরে থাকা ভ্রূণ নয়। বরং সেই ভালোবাসার শুরু হয় বিবাহের মাধ্যমে। কিন্তু আপনি আজ আপনার রবের শিখিয়ে দেয়া ভালবাসা ভুলে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামক এক খ্রিষ্টান পাদ্রীর শিখিয়ে দেয়া ভালোবাসার মোহে পরে “ভ্যালেন্টাইন ডে” পালন করছেন।

সব শেষে আপনাকে আপনার মহান রবের ক্ষমার কথা স্বরণ করিয়ে দিতে চাই, যিনি পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। আপনি হয়ত শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ভুল করে ফেলছেন, যিনার মত ভয়াবহ গুনাহ করে ফেলছেন। কিন্তু এখনো সময় আছে, এখনো সময় আছে তাওবার। আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন ভাই আমার, হে বোন এই হারাম সম্পর্কের আগুন থেকে বেরিয়ে আসুন। পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে করে ফেলুন। রবের কাছে কান্না কাটি করুন। তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে, নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা করুন।এখনো সময় আছে ফিরে আসুন।