মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির নির্দেশ উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এসব হামলায় অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এর একদিন আগে, শুক্রবার রাতে সশস্ত্র সংগঠন হামাস যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই ইসরাইলি সেনারা নতুন করে হামলা শুরু করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে গাজা সিটির তুফ্ফাহ এলাকায়। সেখানে এক বাড়িতে বিমান হামলায় একই পরিবারের ১৭ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আট মাস। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন ত্রাণ প্রত্যাশীও ছিলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য সংগ্রহে এসেছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইল–হামাস যুদ্ধের পর এখন পর্যন্ত গাজায় মোট ৬৭ হাজার ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত উপত্যকায় এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্যাভাব ও পুষ্টিহীনতায় আরও দুইজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫৪ জন শিশু, যারা পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধের অভাবে প্রাণ হারিয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক দিনের হামলা সম্পর্কে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজায় চলমান ইসরাইলি অভিযান এখন “মানবিক বিপর্যয়ের সীমা ছাড়িয়ে গণবিধ্বংসী রূপ” নিয়েছে।





































