দেশে দেড় দশক ধরে নিয়মিতভাবে চালানো তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে শেখ হাসিনার পতনের পর। গত ৫ আগস্টের পর থেকে কোথাও কোনো বড় জঙ্গি হামলা, অভিযান কিংবা জঙ্গি গ্রেপ্তারের নাটক আর দেখা যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন যাদের ‘সক্রিয় জঙ্গি’ বলা হতো, তারা হঠাৎ কোথায় গেল?
আওয়ামী লীগ আমলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস বা জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নিয়মিতই জঙ্গি আস্তানা আবিষ্কার ও হামলা নস্যাৎ করার খবর প্রচার করা হতো। প্রতিটি ঘটনার বর্ণনা ছিল প্রায় একই—‘ষড়যন্ত্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে’, ‘জঙ্গিদের জাল উপড়ে ফেলা হয়েছে’। কিন্তু নিহতদের কাউকেই জীবিত অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়নি। বহু পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ তরুণদেরই পরবর্তী সময়ে ‘অভিযানে নিহত’ দেখানো হতো।
২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে রাজশাহী, দিনাজপুর, সিলেট, গাজীপুর থেকে শুরু করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অভিযান চালানো হয়। গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার পর ‘থান্ডারবোল্ট’, ‘শোলাকিয়া’, ‘সানডেভিল’, ‘ইগল হান্ট’সহ একাধিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে বহু তরুণ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থী ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, সরকার বন্দি তরুণদের দাঁড়ি-চুল বড় করে তাদের জঙ্গি সাজিয়ে তুলে ধরে, পরে গুলি করে হত্যা করেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও ২০১৯ সালের রিপোর্টে র্যাব ও পুলিশের অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, “বাংলাদেশে কোনো ধরনের জঙ্গি নেই।” একইভাবে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, “আওয়ামী লীগের সময় জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ছেলেপেলেদের মারা হয়েছে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, হাসিনার আমলে জঙ্গি কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, জনমনে ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ‘জঙ্গিবিরোধী নেতা’ হিসেবে তুলে ধরার জন্য।
শেখ হাসিনার পতনের পর হঠাৎ করে জঙ্গিদের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া স্পষ্ট করেছে, এতদিন যেসব নাটক সাজানো হয়েছিল তার অধিকাংশই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও এ ধরনের ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে।





































