গাজীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা
Advertisements

গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মোস্তফার দা’র কোপে স্ত্রী সালমা বেগম নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধীরাশ্রম ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত সালমা বেগম একই এলাকার বাসিন্দা করম আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত মোস্তফা ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা হলেও গত ১০ বছর ধরে পশ্চিম ধীরাশ্রমে বসবাস করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে স্বামী মোস্তফা বাড়ি ফেরার পর তার সঙ্গে স্ত্রী সালমা বেগমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোস্তফা ঘরের দরজা আটকে ধারালো দা দিয়ে সালমার মাথায় একাধিক কোপ দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দরজা খোলার চেষ্টা করলে মোস্তফা চিৎকার করে বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি, দরজা খুললে আপনারা আমাকেও মেরে ফেলবেন।”

পরে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে স্থানীয়রা দরজা খুলে সালমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা মোস্তফাকে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

নিহত সালমা বেগমের বড় মেয়ে মর্জিনা আক্তার বলেন, “রাতে হঠাৎ মা চিৎকার করে বলছিল, ‘মর্জিনা বাঁচা, আমারে মাইরা ফেললো।’ আমি পাশের রুমে ছিলাম। দরজা খোলার জন্য ডাকাডাকি করি, কিন্তু মা দরজা খুলেনি। পরে স্থানীয়রা এসে দরজা খুলে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পায় এবং হাসপাতালে নেয়। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।”

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মোস্তফাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Advertisements