বাল্যবিয়ে ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ২০১৮ সালে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’ প্রকল্প চালু করে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল ক্লাবের সদস্যদের নাশতার জন্য। সাত বছর পরও প্রকল্প শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে মোট ব্যয় ৬৬৬ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব আজ একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়।
নতুন প্রস্তাবনায় নাশতার খরচ কমিয়ে ২০০ কোটি করা হলেও, এটি এখনও মোট ব্যয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ। নাশতায় ডিম, বিস্কুট ও কলা দেওয়া হয় বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
এ ছাড়া সংগীত ও আবৃত্তি শিক্ষকদের বেতন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৯ কোটি টাকা এবং কারাতে প্রশিক্ষণে যাচ্ছে ৮৪ কোটি টাকা। ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে ক্লাবের বই ও সাময়িকীর জন্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সানজিদা আখতার বলেন, “এ প্রকল্পে ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৈষম্য রয়েছে। নাশতার পেছনে এত টাকা খরচ অনুচিত ও নিন্দনীয়। প্রকল্পের লক্ষ্য ও ব্যয়ের মিল নেই।”
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বাল্যবিয়ে ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে বাল্যবিয়ের হার বরং বেড়েছে। ২০২৩ সালে ১৫ বছরের কম বয়সি মেয়েদের বাল্যবিয়ে হয়েছে ৮.২% হারে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪.৭%।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রকল্প চালিয়ে বাল্যবিয়ে ঠেকানো সম্ভব নয়। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর মূল্যায়ন।





































