জাতীয় ঐকমত্য সনদ জুলাই মাসের মধ্যেই প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই আমরা জাতীয় সনদ প্রণয়ন করতে পারব। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণে সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”
মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য সংলাপের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এই সংলাপে পূর্বের অসমাপ্ত আলোচনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী অংশ না নেওয়ায় ২৯টি দল ও জোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, “সব বিষয়ে হয়তো একমত হওয়া সম্ভব হবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে জাতি ও রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে অন্তত কিছু বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো যায়।”
তিনি আরও বলেন, “যে সহযোগিতা ও সময় রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের দিচ্ছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।”
এদিনের আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনয়ন, নারী প্রতিনিধিত্ব, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ), প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৭, ১৮ এবং ১৯ জুন—তিন দিনব্যাপী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আলী রীয়াজের নেতৃত্বে বৈঠকে কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, মুয়ীদ চৌধুরী, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।
উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দফার সংলাপ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ওই পর্যায়ে মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিশন।





































