বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিউ টাউনে (কলকাতা) অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ ওই দিন ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটানোর পরিকল্পনা করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তারা দেশে থাকা সন্ত্রাসী, টোকাই ও বেকার তরুণদের অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানোর ছক কষেছে। লক্ষ্য—রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাশকতা ঘটিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা এবং সুযোগ বুঝে রাজনৈতিক মঞ্চে ফেরার পথ তৈরি করা।
তবে সহিংসতার এই পরিকল্পনা নিয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যেই মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ সরাসরি সংঘাতের মাধ্যমে ‘ক্ষমতায় ফেরার’ পক্ষে, অন্যপক্ষ আবার গণতান্ত্রিক কৌশল অবলম্বন করে ধীরে ধীরে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের পক্ষে মত দিচ্ছে। দ্বিতীয় পক্ষের ধারণা, সময় গেলে জনমনে আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের ক্ষোভ কমে যাবে—তখনই দেশে ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
সূত্র জানায়, পলাতক নেতারা ‘ঢাকা লকডাউন’ নামে একটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ভারতের সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা জানান, সীমান্তে অন্তত তিনটি নতুন ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য শরণার্থী প্রবাহ ও জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন সংকটে ফেলেছে। সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে ১৩ নভেম্বরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার এক ঘন আবহ তৈরি হয়েছে।





































