হত্যা মেশিনের কারিগরদের
Advertisements

একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা শুধু জুলাই বিপ্লবের গণহত্যার জন্য দায়ী নন, বরং তিনি দেশব্যাপী একটি বিশাল হত্যার মেশিন তৈরি করেছিলেন। সেই মেশিনের প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং সরকারকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে—এ সরকার হোক বা ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন।”

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী বীরদের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন কোনো পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়। তারা দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে লড়াই করেছেন। আমাদের উচিত সর্বদা তাদের এই আত্মত্যাগ স্মরণ রাখা।”

তিনি আরও বলেন, আমার দেশ যতদিন চলবে, ততদিন জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাদের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলবে।

বিশিষ্টজনদের বক্তব্য অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তারা শহীদদের অবদান স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, “আমার জীবদ্দশায় আমি দুটি স্বাধীনতাযুদ্ধ দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহীদরা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছেন। এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।”

তিনি বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেন, “এই ঘটনা আমাদের চিরকাল লজ্জিত করে। তার আত্মত্যাগ যেন হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”

শহীদ সাজ্জাত হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম এক আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে সজলসহ জুলাই শহীদদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।” তার কথায় হলরুমে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আলী আহসান জুনায়েদ, আইইবি সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাব্বির মুস্তফা ও বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক প্রকৌশলী এম ওয়ালি উল্লাহ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

শহীদ পরিবারের সম্মাননা ও অনুদান অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

Advertisements