বকেয়া বেতন চাওয়ায় গরম রডের ছ্যাঁকা দেয় মালিক
Advertisements

পিক-আপ চালক আলমগীর। দুইমাসের বেতনের টাকা পান তিনি তার গাড়ির মালিকের নিকট। সেই টাকা চাওয়ায় মূলত বিপত্তি ঘটে। টাকা চাওয়ার সাথে সাথে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে আলমগীর হোসেনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন গাড়ির মালিক কাজল।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার দুই সন্তান মো. কাজল মিয়া (৩৫) ও মো. লিটন মিয়া (২৫)। গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে (১৭ অক্টোবর) এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তবে ১৮ অক্টোবরে তাদের অভিযোগ আমলে নেয় থানা পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার কিশোর আলমগীর হোসেন বলেন,কাজল মিয়া প্রথমে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এর কিছুক্ষণ পর লিটন মিয়া রশি দিয়ে আমার হাত পা বেঁধে আগুনের ভেতর লোহার রড গরম করে প্রথমে হাতে ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৫০ টিরও বেশি ছ্যাঁকা দেয়।

একপর্যায়ে চোখের ভেতর গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। হাতে পায়ে ধরে, বাবা-মা ডেকেও তাঁদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাইনি আমি। পরবর্তীতে একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।

আমার শরীরে পানি দিয়ে গোপন অঙ্গে কয়েকটি ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরি না করেও টাকা চুরির কথা মুখ দিয়ে শিকার না করার জন্য ওরা আমার মুখেও গরম রডের ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরির কথা শিকার করলে তারা আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়।’ শ্রীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর হোসেন (১৪) এভাবেই নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন সাংবাদিকদের।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার আলমগীরের পিতা বাদী হয়ে দু’জনকে অভিযুক্ত করে,১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর হোসেন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের মো. সুলতান সরকারের সন্তান।

৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দুই যুবক মিলে তাঁকে নির্যাতন করে অভিযুক্তরা। নির্যাতনের শিকার আলমগীরের পিতা বলেন, বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আপনি ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে নিয়ে যান। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দিবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে নিয়ে আসি। আমি ভয়ে ভয়ে ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারকে ঘটনার বিস্তারিত বলার পরই বিচার চাওয়ার সাহস পাই। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. তারেক হাসান বাচ্চু বলেন, আলমগীরকে যে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে যে চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে তা প্রমাণ হয়নি। যেভাবে রডে ছ্যাঁকা দিয়ে শরীর পুড়িয়েছে, এটা কোনও মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার সালাউদ্দিন রাসেলকে (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একাধিকবার ফোন করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মেসেজ পাঠালেও কোনও উত্তর দেননি।

Advertisements