
পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে দাবি করেছেন শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী মেহরিম ফেরদৌসি। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে বিদ্রোহ নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনেরা। অভিযোগপত্রটি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়ার পর তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের স্ত্রী মেহরিম ফেরদৌসি বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ড একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। সেদিন প্ল্যান করে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি শিশুদের বুট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এটি বিডিআর বিদ্রোহ ছিল না, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা জরুরি। আমরা আজও জানি না, কেন তাদের হত্যা করা হলো। আমাদের সন্তানেরাও জানে না। হত্যার পেছনে কোনো না কোনো কারণ তো অবশ্যই ছিল।”
মেহরিম ফেরদৌসি জানান, “শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। অথচ তারা সৎ ও দেশপ্রেমিক ছিলেন। যদি কোনো দুর্নীতি থেকে থাকে, তবে তার নথিপত্র প্রকাশ করা হোক।”
তিনি এ হত্যাকাণ্ডকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার একটি চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন। মেহরিম ফেরদৌসি বলেন, “দেশের তুখোড় কিছু অফিসারদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু অফিসারদেরই নয়, তাদের পরিবারের সদস্য ও আশপাশের সাহসী মানুষদেরও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
শহীদের সন্তানরা বলেন,”বাবা ছাড়া আমাদের জীবন কতটা কঠিন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা চাই অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক।”
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সময় তৎকালীন বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ, শহীদ কর্নেল কুদরত এলাহীর ছেলে সাকিব রহমানসহ ১৫ থেকে ২০ জন শহীদ পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।