সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, নৃবিজ্ঞান কেবল একটি একাডেমিক শাখা নয়, বরং ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক সমাধানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পথপ্রদর্শক।
গত ১১ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থানকালে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের (Tribhuvan International University) অধ্যাপকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কনফারেন্সে অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকট ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বায়ন যেমন অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে, তেমনি সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক একরূপীকরণ এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের ক্ষয়ের মতো সমস্যাও তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনশীলতার হ্রাস এই অঞ্চলের জীবিকা ও জীবনযাত্রাকে অনিশ্চিত করে তুলছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, লিঙ্গ বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্য উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রয়োগকৃত নৃতত্ত্বের (Applied Anthropology) গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োগকৃত নৃতত্ত্ব কেবল তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক সমাধান তৈরি করতে সহায়তা করে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, পরিবেশসংক্রান্ত জ্ঞান ও সামাজিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এমন সমাধান গড়া যায়, যা বহিরাগত সমাধানের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য।”
তিনি উল্লেখ করেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি সম্প্রদায়ভিত্তিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করে। এতে নীতিনির্ধারক, এনজিও ও উন্নয়নকর্মীরা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন, যা শুধু নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকর ফল বয়ে আনে।
অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োগকৃত নৃতত্ত্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখায়, সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা জোরদার করে। তাই দক্ষিণ এশিয়ার মতো বৈচিত্র্যময় ও জটিল অঞ্চলে এটি ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক সমাধানের অন্যতম পথপ্রদর্শক।”





































