আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিকদিনে ঢাকার আদালতপাড়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা এবং চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারের সময় টার্গেটেড গুলিবর্ষণের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী সক্রিয় অপরাধচক্রগুলো নির্বাচনের সুযোগে এলাকাভিত্তিক দখল, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে তৎপরতা বাড়িয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বিদেশে পালিয়ে থাকা জিসান, ইমন, পিচ্চি হেলাল, সাজ্জাদ ও কিলার আব্বাসসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা এনক্রিপটেড অ্যাপ, আন্তর্জাতিক ফোন নম্বর, হুন্ডি নেটওয়ার্ক ও ভার্চুয়াল কমান্ড সেন্টার ব্যবহার করে দেশে থাকা অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণ করছে। ইমনের নামে ইংল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের কোডযুক্ত নম্বর থেকে ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রনি, যাকে ‘পর্দা রনি’ হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন ত্রাস হিসেবে উঠে এসেছে।
মিরপুর এলাকায় ‘ফোর স্টার’ নামে একটি নতুন গ্যাংয়ের উত্থান ঘটেছে। মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপের পেছনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজনৈতিক আশ্রয়ই বর্তমানে অপরাধীদের ধরতে সবচেয়ে বড় বাধা বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এদিকে অবৈধ অস্ত্রের অবাধ প্রবাহ নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। টেকনাফ, বেনাপোলসহ অন্তত ১৮টি সীমান্ত পথ দিয়ে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়মিত দেশে ঢুকছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের সময় লুট হওয়া ৫,৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে ১,৩৪০টি এখনো উদ্ধারের বাইরে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র রাজধানীর বিভিন্ন বড় গ্যাংয়ের হাতে রয়েছে। সাম্প্রতিক দুই শহরের হত্যাকাণ্ডে স্বয়ংক্রিয় বিদেশি অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, বর্তমানে অন্তত ৭৫টি গ্যাংয়ের হাতে বিদেশি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তা সন্দেহ করছেন, বিদেশে থাকা কয়েকজন গ্যাং গডফাদারের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর একটি অংশের যোগাযোগ থাকতে পারে, যারা নির্বাচনি অস্থিরতা বাড়াতে অপরাধী নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করতে আগ্রহী হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, দ্রুত বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি ও সহজ জামিনই অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার বড় কারণ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু রাখতে সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেন ট্রেসিং জোরদার করা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অপরাধীদের আশ্রয় বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা না গেলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।





































