ভারতীয় চ্যানেল
Advertisements

দেশে বর্তমানে ২৩২টি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন রয়েছে, যার মধ্যে দেশীয় ফ্রি চ্যানেল ৩৯টি। বাকি ১৯৩টি চ্যানেলের অধিকাংশই ভারতীয় টিভি চ্যানেল। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন ‘আকাশ’ ডিটিএইচ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে ১৩০টির বেশি ভারতীয় ও অন্যান্য বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারিত হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা দেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের এ আধিপত্যকে ‘আকাশ অপসংস্কৃতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) ও ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) দাবি করেছে, সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও তদারকির অভাবে দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও দেশীয় টিভি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার রাজস্বও হাতছাড়া হচ্ছে।

তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দুই ধরনের লাইসেন্স নিয়ে বিদেশি চ্যানেল চলমান। বেক্সিমকোর ‘আকাশ’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে ১২১টির বেশি চ্যানেল লাইসেন্স প্রাপ্ত। তবে কতগুলো আসলেই সম্প্রচারিত হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বেক্সিমকোর মালিকেরা পলাতক অবস্থায় থাকায় লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি সমাধানে বিকল্প পথ খুঁজছে।

বেক্সিমকো ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের আওতায় রয়েছে স্টার প্লাস, স্টার ভারত, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ডিসকভারি, ফক্স লাইফসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ভারতীয় চ্যানেল। এছাড়া মিডিয়া কেয়ার লিমিটেডের মাধ্যমে আরও ৩৫টি বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারিত হচ্ছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলগুলোকে ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপন ছাড়া) সম্প্রচার করতে হয়, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। পাশাপাশি ক্যাবল অপারেটরদের মাঝে সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রদর্শনের কারণে আইনের ব্যত্যয় ঘটছে।

অ্যাটকোর সাবেক সভাপতি ও টেলিভিশন মালিক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলের একচ্ছত্র আধিপত্য দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাতৃভাষা বিকৃতি ও বিদেশি সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।’ তিনি শিকড়ের প্রতি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্যাবল অপারেটরদের প্রতিনিধিরাও সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ৩ কোটি টিভি গ্রাহকসহ প্রায় ১০ লাখ পরিবারের আয়-রোজগার এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম জানান, ‘বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচারের বিষয়টি আলাদা অথরিটির অধীনে, বিটিভির বিষয়গুলো আমি জানি না।’

Advertisements