নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার রাজনৈতিক উপন্যাস দেয়াল-এর ৮৬ নম্বর পৃষ্ঠায় তৎকালীন টঙ্গীর আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে এক নববধূকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
সেখানে বলা হয়েছে, এক নবদম্পতি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। টঙ্গীর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল তার দলবলসহ গাড়িটি আটক করেন। এরপর গাড়ির ড্রাইভার ও নববিবাহিত তরুণীর স্বামীকে হত্যা করা হয়। তরুণীকে সবাই মিলে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। তিন দিন পর মেয়েটির রক্তাক্ত লাশ টঙ্গী ব্রিজের নিচে পাওয়া যায়।
ঘটনার পর বিশেষ অভিযানে মেজর নাসেরের নেতৃত্বে মোজাম্মেল গ্রেপ্তার হন। উপন্যাসে উল্লেখ আছে, মোজাম্মেল মেজর নাসেরকে ঘুষের প্রস্তাব দেন—
“ঝামেলা না করে আমাকে ছেড়ে দিন, তিন লাখ টাকা দেব। স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমি ছাড়া পাব।”
তবে মেজর নাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন,
“তোমার তিন লাখ টাকা তুমি তোমার গুহ্যদ্বারে ঢুকিয়ে রাখো! আমি অবশ্যই তোমাকে ফাঁসিতে ঝোলাব।”
এরপর মোজাম্মেলের পরিবার বঙ্গবন্ধুর শরণাপন্ন হয়। দেয়াল উপন্যাসে বর্ণনা করা হয়েছে, মোজাম্মেলের বাবা, ভাই ও টঙ্গী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে অনুনয় করেন।
বঙ্গবন্ধু তখন বলেন,
“কান্দিস না। কান্দার মতো কিছু ঘটে নাই। আমি এখনো বাইচ্যা আছি তো, মইরা যাই নাই। এখনই ব্যবস্থা নিতাছি।”
এরপর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মোজাম্মেলকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেওয়া হয় এবং মেজর নাসেরকে টঙ্গী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে। উপন্যাসে বলা হয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর মোজাম্মেল মেজর নাসেরকে তার বাসায় পাকা কাঁঠাল খাওয়ার নিমন্ত্রণও জানায়।
সোমবার এই তথ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল উপন্যাস থেকে ঘটনাটির বর্ণনা তুলে ধরে আদালতে পৃষ্ঠা উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন।





































