বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের উচিত নিরপেক্ষ থেকে জাতিকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। তিনি বলেন, “দেশ এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জনগণ নিরপেক্ষতার প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে। উপদেষ্টারা যদি জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান, তবে তাদের কোনো দলীয় পক্ষপাত দেখানো চলবে না।”
শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্-এর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম ফজলুল হক মিলন, প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
মির্জা ফখরুল বলেন, “হান্নান শাহ ছিলেন দলের দুঃসময়ের অকুতোভয় যোদ্ধা, সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি ব্যক্তিস্বার্থকে কখনোই প্রাধান্য দেননি; বরং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আজীবন নিবেদিত থেকেছেন।”
ড. মুহাম্মদ ইউনুস প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি নোবেল বিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা ঠিক নয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু উপদেষ্টা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। জাতির এই সংকটময় মুহূর্তে সবাইকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”
ভারতের সঙ্গে অসম পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা ও নির্বাচনী হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা বারবার বাংলাদেশের জনগণকে বিপদের মুখে ফেলেছে, তারা যেন আর কোনোভাবেই ক্ষমতায় ফিরে আসতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে, ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা হার মানিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই একমাত্র পথ।”
বিএনপি মহাসচিবের ভাষায়, “বিএনপি-ই হচ্ছে সংস্কার ও গণতন্ত্রের প্রকৃত ধারক ও বাহক। আমরা দেশকে আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
স্মরণসভা শেষে তিনি ঘাগটিয়া গ্রামে ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্-এর কবর জিয়ারত করেন, পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন।





































