আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে
Advertisements

বাংলাদেশে জুলাই মাসের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মধ্যস্তরের অসংখ্য নেতা পরিবারসহ ভারতে পালিয়ে গেছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কলকাতায় আশ্রিত ৭৩৪ জনের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদের নাম, বর্তমান ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর, এমনকি ফোন নম্বরও সংরক্ষিত আছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনের ১১ রাজাজি মার্গে নিরাপদ বাসভবনে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন আওয়ামী লীগের বহু প্রভাবশালী নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (স্ত্রী ইশরাতুন্নেছা কাদেরসহ নিউ টাউনে, পাসপোর্ট D-00010759, ফোন +919330341810), প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম (ছেলে শেখ ফজলে নাইম ও শেখ ফজলে ফাহিমসহ, পাসপোর্ট D-00012069, ফোন +917005683693), মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (স্ত্রী ও কাজের লোকসহ, পাসপোর্ট A-12328796, ফোন +917439334764), জাহাঙ্গীর কবির নানক (পরিবার ও সহকারীসহ, পাসপোর্ট B-00692266, ফোন 01777777775), এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (স্ত্রী ও দুই মেয়ে, পাসপোর্ট D-00012830, ফোন 01711810970), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (মেয়ে ও কাজের লোকসহ, পাসপোর্ট D-00010020, ফোন +919330360454), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ (স্ত্রী ফৌজিয়া আলমসহ নিউ টাউনে, পাসপোর্ট D-00011958, ফোন +916909793033) এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু (স্ত্রী সীমা হামিদসহ সল্টলেক সেক্টর-২, পাসপোর্ট D-00012477, ফোন +919330389422)। আওয়ামী লীগের প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুরও কলকাতার কেষ্টোপুরে অবস্থান করছেন (পাসপোর্ট D-00012964, ফোন +918118978283)।

শেখ পরিবারের একাধিক সদস্যও কলকাতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দিন ও ছেলে শেখ তন্ময়, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এবং মুজিবুর রহমান নিক্সন।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কলকাতায় অবস্থান করছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক, তাজুল ইসলাম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, জাহিদ মালেক, জিল্লুল হাকিম, জাহিদ আহসান রাসেল, শাহরিয়ার আলম, কেএম খালিদ, নাহিদ ইজহার খান, শরিফ আহমেদ, নজিবুল্লাহ হিরু, মির্জা আজম, সফিউল আলম খান নাদেল, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সেলিম মাহমুদ, সায়েম খান ও রেমন্ড আরেং।

সাবেক মেয়র, হুইপ ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ খোকন, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল ও স্ত্রী অপু উকিল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নজরুল ইসলাম বাবু, সাইমুম সরওয়ার কমল, আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা, আলী আসগর টগর, শিবলী সাদিক, মাহমুদ হাসান রিপন, ফজলে হোসেন বাদশা, আয়েন উদ্দিন, তারভীর শাকিল জয়, হাবিবে মিল্লাত, আকরামুল হক, সাইফুজ্জামান শিখর, বীরেন শিকদার, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, আক্তারুজ্জামান, এসএম শাহজাহান, পংকজ নাথ, একেএম আউয়াল সাইদুর রহমান, মহিউদ্দিন মহারাজ, আমানুর রহমান রানা, ছোট মনির, অনুপম শাহজাহান জয়, মো. জোয়াহেরুল ইসলাম, শাহীন চাকলাদার, শওকত হাচানুর রহমান রিমন, আতিউর রহমান আতিক, সানোয়ার হোসেন ছানু, আব্দুল মালেক সরকার, ফাহিম গোলন্দাজ বাবেল, মোস্তাক আহমেদ রবি, সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওলাদ হোসেন, মশিউর রহমান সজল, মাইনুল হোসেন নিখিল, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, মো. হাবিব হাসান, সাইফুল ইসলাম, শাহদাব আকবর, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জিল্লুর রহমান, ময়েজ উদ্দিন শরিফ, জাহাঙ্গীর আলম সরকার, প্রাণ গোপাল দত্ত, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, নিজাম উদ্দিন হাজারী, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আশেক উল্লাহ রফিক ও পারুল আক্তার।

অন্যদিকে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ ও সাবেক নেতাদের মধ্যে আছেন গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, গোলাম রাব্বানী, ওমর শরিফ, সজল কুণ্ডু, জয়দেব নন্দী, গোলাম সারোয়ার কবীর, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, শেখ বজলুর রহমান এবং অভিনেত্রী তারিন জাহান।

আইবি সূত্র বলছে, শুরুতে কলকাতার পার্ক-মার্কেট এলাকায় এসব নেতাদের অবাধ চলাফেরা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের ওপর কড়া নজরদারি বসানো হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে চলাফেরা সীমিত। পারিবারিক খরচের বেশিরভাগই বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার ৫ আগস্টের পর তাদের পাসপোর্ট বাতিল করেছে, তবুও অনেকের হাতে এখনো বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, যা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। কলকাতার সূত্রগুলো বলছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকেই কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহযোগিতা পাচ্ছেন তারা।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে, কলকাতায় আশ্রিত আওয়ামী নেতাদের কার্যক্রম প্রতিনিয়ত নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রতিদিনই ডেটাবেসে নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র: আমার দেশ

Advertisements