দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অস্থির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আফগানিস্তান চমক দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রানীতি ও দুর্নীতি কমে যাওয়াকে এ স্থিতিশীলতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২০২৫ সালে আফগান মুদ্রা ‘আফগানি’ (AFN) বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল ও শক্তিশালী মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান ও ইরানের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন হলেও আফগানি দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে। মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কড়াকড়ি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ লেনদেন কমে যাওয়া, রপ্তানি বৃদ্ধি ও দেশের ভেতরে নগদ প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় আফগানি অন্যদের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানি রুপি কয়েক বছরে ৩০০ শতাংশের বেশি মূল্য হারিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঋণের চাপ ও আইএমএফ নির্ভরতা সেখানে মুদ্রা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করেছে। আফগানিস্তান কঠোর নীতির কারণে এমন ধস এড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেও আফগানিস্তান অন্যদের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তান, ইরান ও তুরস্ক যেখানে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে, সেখানে আফগানিস্তানের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিস্ময়কর শৃঙ্খলা দেখিয়েছে দেশটি। কোনো বৈদেশিক ঋণ ছাড়াই সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও প্রশাসনিক ব্যয় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব থেকে মেটানো হচ্ছে। কর আদায়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি কমে যাওয়া অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অবস্থার উন্নতিই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে। প্রধান বাজার, বাণিজ্যিক রুট ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রয়েছে। অপরাধ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি বাণিজ্য ও স্থানীয় বিনিয়োগের প্রবাহও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সীমিত বৈদেশিক যোগাযোগের মধ্যেও আফগানিস্তান যে স্থিতিশীল অর্থনীতি বজায় রেখেছে, তা অঞ্চলের জন্য বিরল উদাহরণ।





































