শ্রীপুরে কারখানার বর্জ্যে ২০০ বিঘা ফসলিজমি হুমকির মুখে

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের বাউনি গ্রামে প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড নামক কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথারীতি না থাকায় ফসলি জমিতে ছেড়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমির উৎপাদন হুমকিতে পড়েছে। পুকুরের মাছ, ব্যাঙ, সাপসহ জীববৈচিত্র প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে, এই কারখানার চারপাশে। সাইসাথে অত্যধিক বিষাক্ত গ্যাসের দুর্গন্ধে রোগবালাই লেগেই থাকে এই এলাকার মানুষের। এই দুর্গন্ধ থেকে জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে বিগত (২৯ আগস্ট ২০২১) তারখে পরিবেশ অধিদপ্তর, গাজীপুর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কেউ যোগাযোগ করে পাচ্ছে না, তাদেরকে মূল ফটক থেকেই ফেরত আসতে হচ্ছে। ফোনও রিসিভ করেনা কারখানা কর্তৃপক্ষ। মাঝেমধ্যে চুন দিয়ে তারা দুর্গন্ধ কমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু স্থায়ী কোনও সমাধান হচ্ছেনা ভুক্তভোগীদের।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে বাউনি গ্রামের ভুক্তভোগীরা এসব কথা জানান।

একই সময়ে ওই গ্রামের নিয়ার উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্যারাগনে মূলত মোরগ উৎপাদন করে। তাদের উৎপাদিত মোরগের বর্জ্য ড্রেন করে সরাসরি আমাদের জমিতে ছেড়ে দেওয়ার ফলে ফসলি জমি ধ্বংস হচ্ছে। আমাদের বিঘাপ্রতি ধানের জমিতে আগে ২০ মন ধান হতো, এখন পুরো ধানক্ষেতই বিষাক্ত গ্যাসে ঝলসে যায়। এছাড়াও বর্জ্যের বিষাক্ত গ্যাসে পুকুরে সব মাছ মরে গেছে, এতে আমাদের প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গ্রামবাসীর ক্ষতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীদের গণস্বাক্ষরসহ পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর, শ্রীপুর মডেল থানা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়, গাজীপুরে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ওই অভিযোগের পর প্রায় তিনমাস হলেও অজানা কারণে এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর এর উপপরিচালক মোহাম্মদ নয়ন মিয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জানি। আজই টিম ভিজিট করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’

Advertisements