আড়াল স্কুল এন্ড কলেজে

সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে ২০২০ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশংসা পত্র এবং মার্কশীট দেওয়ার নামে চলছে বানিজ্য, এমন তথ্য উঠে এসেছে কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের আড়াল জি এল হাইস্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এসএসসি উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির জন্য স্কুল কর্তৃক প্রশংসা পত্র ও মার্কশীট প্রয়োজন। কিন্তু স্কুল কর্তৃক মার্কশীট এবং প্রশংসা পত্র আনার জন্য কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে গেলে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান জানায় প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে ১০০০ টাকা করে দিতে হবে। অন্যথায় মার্কশীট এবং প্রশংসা পত্র দেওয়া হবে না। এদিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ ছাত্রী রাজশ্রী রানী রায় (ক্লাস রোল-০৩) ১০০০ টাকা দিয়ে মার্কশীট নিতে বাধ্য হয়।

কিন্তু টাকা না থাকায় তারই বান্ধবী জিপিএ ৫ পাওয়া জান্নাতুল মাওয়া (ক্লাস রোল-০৪) টাকা দিতে না পারায় মন খারাপ করে বাসায় চলে যায় এবং বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। তার পরিবারের সদস্য অধ্যক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ার জন্য কল দেয়; জিজ্ঞেস করে, ” এত টাকা কেনো নেওয়া হচ্ছে স্যার এর কারন কি? অন্যান্য স্কুলে তো আমাদের জানামতে ১০০-১৫০ টাকা নেওয়া হয় কিন্তু আপনি কেন এত টাকা নিচ্ছেন? ” অধ্যক্ষ উত্তরে বলেন, ” আমি ১০০০ করে ধার্য করেছি।

মার্কশীট আর প্রশংসা পত্র নিতে হলে নেন না নিলে না নেন।” মাওয়ার পরিবার অধ্যক্ষের সাথে কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। অধ্যক্ষের এমন আচরণের পর কয়েকজন সাধারণ অবিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা আরো বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, কাজ করে দিন এনে দিন খাই ভয়ে আমরা প্রতিবাদ করতে পারছি না। সকল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের প্রত্যাশা মার্কশীট এবং প্রশংসা পত্র দেওয়ার নামে বানিজ্য বন্ধ করা হোক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করেন।

Advertisements