হিন্দুস্তানে সর্বপ্রথম ইসলামের আগমন

দক্ষিন ভারতের চেরা রাজবংশের উপাধী ছিলো চেরামান পেরুমল। রাজা রবি বার্মা; যার পুরো নাম চেরামান পেরুমল রবি বার্মা। তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁকে আর কোন দিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরকমই জনশ্রুতি আছে দক্ষিন ভারতের কেরলে। পরবর্তীতে হাদীস এবং ইতিহাসের সুত্র ধরে জানা যায় এই চেরামান পেরুমলই হলেন ভারতের প্রথম মুসলমান।

ইসলামের আবির্ভাবের বহু পূর্ব থেকেই হিন্দুস্তান (ফার্সি শব্দ) এ আরব বনিকগন ব্যবসার কাজে আসা যাওয়া করতেন। মসলা,কাপড়,স্বর্ন, সুগন্ধি ও অন্যান্য পণ্য বেচাকেনা তাদের প্রধানতম ব্যবসা ছিলো। ইসলামের আবির্ভাব তথা রাসুল সাঃ এর নবুয়তের পরে চাঁদ দিখন্ডিত করার যে ঘটনা ঘটেছিলো সেটা সারা দুনিয়া দেখেছিলো। চেরামান পেরুমল তাদের মধ্যে একজন। তিনি তখন চেরা রাজবংশের রাজা। এই অভূতপূর্ব ঘটনা দেখার পরে তিনি অস্থির হয়ে যান এবং আসল ঘটনা জানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। এই ঘটনার অনেক পরে আরব বনিকদের মাধ্যমে হিন্দুস্তানি বনিকরা নবী সাঃ এর এই মোজেজার ঘটনা জানতে পারেন। বিষয়টি তখন টক অব দ্য টাইম। এই তথ্য কেউ একজনের মাধ্যমে পৌছে যায় চেরামান পেরুমলের কাছে। তিনি নিজে আরব বনিকদের সাথে কথা বলেন এবং সিদ্ধান্ত নেন এই মহামানব রাসুল সাঃ এর সাথে দেখা করবেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার রাজ্যের ভার পরিবারের সদস্যদের উপর দিয়ে তিনি আরবে যাত্রা করেন।

সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে প্রাপ্ত একটি হাদীসও রয়েছে। তিনি এক পুর্নিমা রাতে চন্দ্র দিখন্ডিত হতে দেখেন। পরে কেরালায় আগত আরব বনিকদের থেকে নবী মুহাম্মদ সাঃ ও তার চন্দ্র দিখন্ডিত করার মুজিযার কথা জানতে পেরে মুহাম্মদ সাঃ কে দেখতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। অবশেষে নিজ রাজ্য ভাগ করে দিয়ে তিনি মক্কায় চলে যান। আবু সাঈদ খুদরী রাঃ এর বর্ণনায়, তিনি নবী মুহাম্মদ সাঃকে দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত আদার আচার উপহার দেন। ভারতীয় এক বাদশাহ কর্তৃক তৈরি সেই আচার সংক্রান্ত একটি হাদিসও রয়েছে, যা প্রখ্যাত সাহাবী আবু খুদরী (রা) হতে বর্ণিত এবং হাদিসটি হাকিম (রা) তার “মুস্তাদরাক” নামক কিতাবে সংকলন করেছেন।

চেরামান পেরুমল হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) এবং আরও অনেক প্রখ্যাত সাহাবার উপস্থিতিতে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নবী তার নাম রাখেন তাজউদ্দিন। সতেরো দিন তিনি নবী মুহাম্মদে সাঃ এর সাথে থাকেন। সাহাবী মালিক বিন দীনার রাঃ এর বোন রাজিয়াকে তিনি বিবাহ করেন। এরপর মালিক বিন দিনার রাঃ কে সাথে নিয়ে মাতৃভূমিতে ফেরার পথে ওমানে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন। মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সাহাবী মালিক দীনার রাঃ ভারতে এসে চেরামান রাজার জন্মভূমি কেরালার মেথেলায় ভারতের প্রথম জামে মসজিদ, চেরামান জুম্মা মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বহু কাল ধরে এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। ধারনা করা হয় এই মসজিদ রাসুল সাঃ এর জীবদ্দশায় ৬২৯ সালে নির্মিত। অর্থাৎ মুহম্মদ বিন কাশিমের ভারত আগমনের প্রায় আশি বছর আগের ঘটনা এটি।

ছবিঃ চেরামান জুম্মা মসজিদ।( এই মসজিদ টি এখনো বর্তমান)
(সুত্রঃ বিভিন্ন ব্লগ, উইকি, নোট)