শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি

শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী আগামী রোববার থেকে খুলছে দেশের স্কুল-কলেজগুলো। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সামগ্রী কেনাকাটা করতে।

অন্য দিকে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শিক্ষকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। শিক্ষকরা এ কদিন ব্যস্ত ছিলেন পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে। এক দিকে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান রেখেছেন।

শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক স্কুল-কলেজে শুক্রবারও ধোয়ামোছার কাজ করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো স্কুলের সামনে এখনো আগাছা ও জলাবদ্ধতাও দেখা গেছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, সপ্তাহের সাত দিন স্কুলে যেতে হবে না শিক্ষার্থীদের। শুধু পিইসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দৈনিক ক্লাস করবে। বাকিদের এক দিন সরাসরি পাঠদান হবে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো অনলাইনে বা টেলিভিশনে দূরশিক্ষণে পাঠদান চলবে।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০টি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ মধ্যে রয়েছে- চেকলিস্টের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি করা হবে প্রতিষ্ঠান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ঢাকায়; শিক্ষার্থীদের দৈনিক সচেতন করা হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার; হাত ধোয়ার ব্যবস্থা; দৈনিক প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই- এজন্য গেটে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ; প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা; লক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা না করা; স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্লাসরুমে বসানো; স্কুলে সমাবেশ না করা, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে যার যার সিটে রেখে হালকা শারীরিক কসরত; পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা; হোস্টেলে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ১১টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. ২০২১-২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে।

২. প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন প্রতিষ্ঠানে আসবে।

৩. সপ্তাহে প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণীতে দুটি করে ক্লাস ধরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুটিন প্রণয়ন করবে।

৪. রুটিনের সাথে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫. যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর সংযুক্ত সেই প্রতিষ্ঠানগুলো ওই সকল স্তরের জন্য নির্ধারিত ক্লাসগুলোর সমন্বয় করে রুটিন প্রণয়ণ করবে।

৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলমান ডিগ্রি, সমমান ও মাস্টার্স পরীক্ষার সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে ২০২১-২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য রুটিন প্রণয়ন করে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

৭. রুটিন প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ/প্রস্থান/অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনো বিষয় না ঘটে।

৮. রুটিন এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়।

৯. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপাতত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে।

১০. প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য প্রেরণ করতে হবে।

১১. পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ক্লাস রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে।

Advertisements