শ্রীপুরে বকেয়া বেতন চাওয়ায় আ. নেতা কর্তৃক নারী শ্রমিক রক্তাক্ত

বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার লাক্সমা নামক পোশাক কারখানায় বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এ সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আসাদের নেতৃত্বে মারধর করে বলে জানান ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

বুধবার (১৪ জুলাই) বিকেলে জুন মাসের বকেয়া বেতন, জুলাই মাসের হাফ বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভের সময় নারী শ্রমিক মোমেনার মাথায় ইট মারলে তিনি রক্তাক্ত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়।

পৌর এলাকার দক্ষিণ ভাংনাহাটির ‘লাক্সমা ইনার ওয়্যার লিমিটেড’ গার্মেন্টস কারখানায় বেতন ভাতার দাবিতে আজ বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

গুরুতর আহত শ্রমিক মোমেনা আক্তার জানান, প্রতি মাসেই শ্রমিকদের বেতন নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করেনা, প্রতি ঈদের সামনে বেতন ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন করতে হয়। আমাদেরকে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ খানের নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই, আমাদের বকেয়া বেতন চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা বলেন, গত ঈদে আমাদের অর্ধেক বোনাস দেয়া হয়েছে। এবারও আমাদের বেতন বোনাস না দেয়ার জন্য বিভিন্ন পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন কাজে যোগ দেয়া অসংখ্য শ্রমিকদের দুই মাস অতিবাহিত হলেও তাদের বেতন দেয়া হয়নি। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বেতন ভাতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা শুনতে চান মালিকপক্ষের কাছ থেকে, নইলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে কোনো পথ নেই বলেও তারা জানায়।

শ্রমিকদের পক্ষথেকে অভিযোগ করে জানানো হয় মালিক পক্ষ পুলিশ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ম্যানেজ করে শ্রমিকদের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন সময় তাদের উপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে কাজ করতে বাধ্য করে থাকে। এবারও পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একজন বলেন, করোনাকালীন সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে আমরা কাজ করে যদি বেতন ভাতা না পাই তবে আমরা কোথায় যাবো। ঈদের আগে টাকা না পেলে – ঘরভাড়া, দোকান বকেয়া দিতে পারবোনা, বউ পোলাপান নিয়ে পথে বসতে হবে।

এ বিষয়ে বারবার চেষ্টা করেও মালিক পক্ষের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ফোরকান খান জানান, বিষয়টি প্রশাসন এবং শ্রমিকদের বিষয়, পুলিশ শ্রমিকদের সাথে কথা বলছে। খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারখানার সম্মুখে আন্দোলনরত শ্রমিকদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। নিরীহ শ্রমিকদের উপর মালিকপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হতে দেখা গেছে। পুলিশ নির্বিকার ভাবে পাশে দাড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখাগেছে।

Advertisements