ম্যারাডোনার চিকিৎসা ছিল ত্রুটিপূর্ণ

তিনি কিংবদন্তি, তিনি ফুটবল জাদুকর, আবার তিনিই বিতর্কের রাজা। আনন্দ-বেদনার রঙে যার জীবন তাকে নিয়ে আলোচনা কি এত দ্রুত থামবে।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে গত ২৫ নভেম্বর পরপারে পাড়ি জমান বিশ্ব ফুটবলের এই মহানায়ক। তার চলে যাওয়া মানতে পারেননি শুভানুধ্যায়ীরা। জোর দাবি তোলেন চিকিৎসা পদ্ধতি তদন্তের জন্য। শেষমেশ তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যারাডোনা যেসব চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন, সেটা ছিল ত্রুটিপূর্ণ, যত্নহীন। রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।

তাদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে হেলাফেলা হয়েছে কিনা জানতে গঠিত বোর্ডে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি তাদের হাতে আছে। যেখানে এমন অভিযোগগুলো তুলে ধরেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডাক্তাররা। শুধু তাই নয়, তারা দাবি করেন, যদি বাড়িতে রেখে চিকিৎসা না করে ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হতো তাহলে এত দ্রুত তিনি পৃথিবী নাও ছাড়তে পারতেন।

ফুটবলই ছিল ম্যারাডোনার প্রাণ। তবে ফুটবলের ওপর অসামান্য দখলের জন্য তিনি যেমন ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, ঠিক তেমনি মাঠের ভেতরে ও বাইরে নিয়ন্ত্রণহীন জীবনের জন্যও চর্চিত হবেন। কোকেনের মতো মরণনেশায় আসক্ত ছিলেন দীর্ঘকাল। ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের পাশাপাশি এ নেশা আরও বছর দশেক আগেই নাকি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল তাকে। ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনাস আয়ার্সের উপকণ্ঠে লুনাস এলাকার এক বস্তিতে জন্ম ম্যারাডোনার। এরপর রাজধানীর দরিদ্রদের বসবাস যে এলাকায় সে ভিলা ফিওরিতোতে বেড়ে ওঠেন। শৈশবের দারিদ্র্যের কশাঘাতের মধ্যেই ফুটবলের প্রেমে মজেছিলেন তিনি। ছেলেবেলাতেই তার প্রতিভার ঝলক ছড়িয়ে পড়েছিল। যে কারণে ১৬ বছর হওয়ার আগেই ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনা জুনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয় তার।

মূলত বিশ্বকাপ দিয়ে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন তিনি। চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, যার মধ্যে শেষটিতে মাদকের কারণে আসরের মাঝপথে নিষিদ্ধ হন। আর ‘৮৬ বিশ্বকাপ তাকে দেয় সোনালি ট্রফির ছোঁয়া