বেয়াড়া সন্তানকে কেউ শাসন করে না

ইসরাইল একটি দেশ নয় কিন্তু একটি সন্ত্রাসী ভূমি। ইরানের সুপ্রিম নেতার এই কথার মাঝে ইসরাইলের প্রকৃত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ এই সন্তান অনেক আগে থেকেই নানা উপায়ে ভূমি দখল করে যাচ্ছে। অপারেশন জাফা, হাইফা, জেনিন, বারাক, বেন-আমি, আক্রা প্রভৃতি ভুলে যাওয়ার নয়। সারবা-শাতিলা, ইয়ুন কারাই, আকসা কিংবা হেবরণ প্রভৃতি স্থানে নিধনযজ্ঞও কারো অজানা নয়। হাগানা, লেহি, ইরগুন জাই, মোসাদ এসব নাম শুনলেই হিংস্র দাবনীয় রূপ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ফিলিস্তিনি ভূ-খণ্ড দখল করে সেখানকার

বাসিন্দার তাড়াতে এই সংস্থাগুলো একের পর এক অপরাধ করলেও এখন পর্যন্ত এদের নাম সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত হয়নি৷ কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে৷ বিভিন্ন উপায়ে ফিলিস্তিনিরা ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে৷ বছরের পুরো সময় জুড়েই সরবে নিরবে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে হয়ত একটু ইস্তফা দেয়। পরে তেজদীপ্ত বাহুবলে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুনরায় ভূমি দখল করে। ভূমি দখলের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা চলছে। এ হামলাকে ইসরাইল প্রধানমন্ত্রী সমর্থন করেছেন। পরিতাপের বিষয় হলো অবৈধ সন্তানকে কেউ শাসনও করে না। মানবিক হস্তক্ষেপের নামে বিশ্ব মোড়লরাও কোন শাস্তি দেয় না। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে দুই এক লাইন কথার ফুলঝুরি উপহার দেয় এই যা।

একসময় প্যালেস্টাইন ইস্যুতে আরব রাষ্ট্রগুলো বেশ সবর ছিল। আল আকসায় আগুন দেয়ার ঘটনায় জন্ম নিয়েছিল ওআইসি। আরব লীগ ও আরব দেশগুলো সক্রিয় অংশ নিয়েছিল। আরব ইসরাইল ৪টি যুদ্ধেই আরব রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। তবে প্রশ্ন থেকে যায় আরব দেশগুলো কি আদৌ ফিলিস্তিন ইস্যুকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছিল?

কালক্রমে এই ইতিহাসে পরিবর্তন ঘটেছে। দুই রাষ্ট্র সমাধান ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে প্রায় অনেক দেশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসরাইলের বলয়ে ঢুকে পড়েছে। একারণে অনেকেই এখন খুব একটা উচ্চবাচ্য করে না। সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত৷ চাচা আপন প্রাণ বাঁচা অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র।

দখলদার অবৈধ সন্তানকে রুখে দাড়াতে ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল। কালক্রমে এই আন্দোলন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। হামাস ফাতাহ বিরোধ প্যালেস্টাইনদের দুঃখ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শেখ জাররাহ শরণার্থী শিবিরের ঘটনার নিয়ে আল জাজিরার আলোকপাতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ফিলিস্তিনিরা এক অর্থে যোগ্য নেতা সংকটে রয়েছে।

সেখ জাররাহ-তে যা ঘটছে এর আগেও এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। ২০১২, ২০১৭, ২০১৮ সালের ঘটনা স্মরণ করা যায়। সাময়িক উত্তাপ ছড়িয়ে ঘটনাগুলো হারিয়ে যায় অসীমে। এই ঘটনাও হারিয়ে যাবে, কিছু দিন পর আসবে নতুন ঘটনা। এর মাঝে নতুন কোন অঞ্চলে ইহুদি বসতি গড়ে উঠবে৷ এভাবেই হয়ত একদিন মানচিত্র থেকেই ফিলিস্তিন নাই হয়ে যাবে।

১৮৭৮ সালে প্রথম এক ঘর ইহুদি কৃষক বসতি গড়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে ১৯৪৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ লক্ষে। এই সময় প্যালেস্টাইন মোট জনসংখ্যা ছিল ২০ লাখ। বর্তমান পরিসংখ্যান নতুন করে না বললেও বুঝতে পারা যায়।

জানিয়ে রাখি, ইহুদীরা অনেক শাসকদের কাছে নিগৃহীত ও নির্যাতিত হলেও মুসলিম শাসকদের কাছে সমাদৃত হয়েছিল। উসমানিয়া সাম্রজ্যের অধীনে ইহুদিরা শান্তিতেই বসবাস করেছে। আবার উমর (রা) জেরুজালেম দখল করলেও ইহুদিদের কোন ক্ষতি হয়নি।

জার আমলে পগরম কর্মসূচির কারণে রাশিয়া থেকে লাখ লাখ ইহুদি বিতাড়িত হয়। হিটলারের ইহুদি নিধনের কথাও আমরা জানি। এই হলোকাস্টকে ব্যবহার করে ইহুদিরা সহানুভূতি অর্জন করতে নানা প্রোপাগাণ্ডা চালায়।

ইহুদিরা এক অদ্ভুত জাতি। একদিকে তারা ধর্মের প্রতি অনুরাগী জাতি হিসেবে প্রমিজল্যান্ড প্রতিষ্টায় নানামুখী অপকর্ম চালায়। অন্যদিকে, তাদের শ্রেষ্ঠ রাজা ডেভিড কে ব্যভিচারে লিপ্ত করে গল্প বানায়। বিজ্ঞতম সম্রাট সোলেমানের উপর আরোপ করে পরনারীর প্রণয়।

স্বার্থপরতা ও অহংকারে আচ্ছন্ন ইহুদি জাতির কুকীর্তি নিয়ে আলাপ করতে গেলে বেশ দীর্ঘ রচনা হয়ে যাবে। তাই বলে সব ইহুদিই এক তা নয়, কিছু মানবিক মানুষ সব জাতির মাঝেই রয়েছে। এমন অনেক ইহুদি আছেন যারা জায়োনিজমকে সমর্থন করেন না।

ফিলিস্তিন সংকটের আশু কোনো সমাধান নেই। গোটা ফিলিস্তিন দখল না করে ইসরাইল থামবে না এটা আজ স্পষ্ট। এদের থামানোর কোন উপায় আছে কি?

Advertisements