ফ্রিজে কোরবানির মাংস কতদিন সংরক্ষণ করা যায়

কুরবানী অতি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি ইবাদত। প্রতিবছর জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ “কুরবানী বা ঈদুল আযহা” পালন করা হয়। কোরবানির সবছে আনন্দের বিষয় হলো পশু কোরবানি করা।এই মাংস সঠিক নিয়মে বিলি-বণ্টনের পর নিজের ভাগে যতটুকু মাংস থাকে তা সংক্ষরণ নিয়ে আগে বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। বড় বড় পাতিলে জ্বাল দিয়ে রাখা হতো সেই মাংস।

তবে বর্তমানে প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল অনেকের বাসায় ফ্রিজার কিংবা রেফ্রিজারেটর আছে। তাই মাংস সংরক্ষণের ঝক্কি এখন অনেকটাই কমেছে। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে মাংস?

মার্কিন খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) তালিকা অনুযায়ী, কাঁচা মাংস ফ্রিজারে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। এই সময়ের মধ্যে মাংসের পুষ্টিগুণে খুব একটা হেরফের হয় না। তবে এর চেয়ে বেশি সময় মাংস সংরক্ষণ করলে পুষ্টিগুণ আর স্বাদ-দুইই কমে যেতে পারে।

তবে ফ্রিজারে মাংস সংরক্ষণের সময় সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। সংরক্ষণের আগে মাংস ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে জিপলক বায়ুরোধক ব্যাগে ভরে রাখা উচিত।

এছাড়া ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে রাখা উচিত বলে জানিয়েছে এফডিএ। এই তাপমাত্রায় মাংসের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ইস্টসহ জীবাণুগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

মাংস সংরক্ষণের সঠিক উপায়-

প্রথমেই মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ পরিষ্কার করতে হবে। ফলে ফ্রিজে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণু মাংস নষ্ট করতে পারবে না।

তবে ফ্রিজ পরিষ্কারের পরে ফ্রিজে নতুন করে বরফ জমাতে হবে। এতে করে মাংস দ্রুত ঠাণ্ডা হবে এবং মান ভালো থাকবে।

মাংস কাটার পর সাথে সাথে ফ্রিজে মাংস না রাখাই ভালো। কারণ মাংস অনেকটা গরম থাকে এসময়। তাই তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পর ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করা উচিত।

মাংসে যদি অতিরিক্ত রক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই রক্ত ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার ব্যাগে ভরে মাংস সংরক্ষণ করতে হবে।

মাংস যখন রাখা হবে তখন একটি প্যাকেটের মাঝে কাগজ দিয়ে আরেকটি প্যাকেট রাখতে হবে।এতে দীর্ঘদিন ফ্রিজে থাকলে একটির সাথে আরেকটি প্যাকেট আটকে যাবে না। ফ্রিজ থেকে সহজেই মাংসের প্যাকেট বের করে নিতে পারবেন।

ফ্রিজের তাপমাত্রা একদম কমিয়ে দিতে হবে মাংস রাখার পরে। কারণ এতে করে তাড়াতাড়ি মাংস জমবে।ফ্রিজে গরুর মাংস এবং খাসির মাংস পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত রেখে খাওয়া যায়। তবে কলিজা বেশিদিন ফ্রিজে না রাখাই ভালো। এতে স্বাদ ও গুন নষ্ট হয়ে যায়।

Advertisements