পেগাসাস প্রস্তুতকারী

ইসরাইলি সাইবার আর্মস সংস্থা পেগাসাস প্রস্তুতকারী সংস্থা এনএসওকে কালো তালিকাভুক্ত করল আমেরিকা। বুধবার এক কথা জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা। তবে কি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে! যদিও ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে জাতিসঙ্ঘও। এ বিষয়ে যতদিন না নির্দিষ্ট করে নীতি স্থির করা যাচ্ছে, ততদিন এ ধরণের সফটওয়্যার বিক্রি ও ব্যবহারের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে তারা।

গত কয়েক মাসে স্পাইওয়্যার পেগাসাস নিয়ে যেভাবে উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি তাতে মিত্র রাষ্ট্র ইসরাইলের একটি সংস্থাকে আমেরিকা কালো তালিকাভুক্ত করা, পুরোদস্তুর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

চলতি বছর অগস্ট নাগাদ পেগাসাস কেলেঙ্কারিতে নড় চড়ে বসে গোটা দুনিয়া। বলা হয়, সারা বিশ্বে প্রতি হাজার জন মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্তত ১০ জনের মোবাইল ফোনে আড়ি পাতছে এই বিশেষ সফটওয়্যার। সে সব স্মার্ট ফোনে হানা দিয়েছে পেগাসাসের পক্ষীরাজ, ব্যবহারকারীরা প্রায় প্রতিমুহূর্তে হারিয়েছেন ব্যক্তিগত তথ্য। নিজের অজান্তেই ব্যক্তিগত বার্তা চলে গিয়েছে বিদেশের কোনো ব্যক্তির হাতে। প্রতি মুহূর্তে লক্ষ্য করা হয় মোবাইল ব্যবহারকারীর অবস্থান, তার গ্যালারিতে থাকা ছবি, এমনকি মোবাইল ব্যবহারকারীর অজান্তেই কাজ করতে শুরু করে দেয় ক্যামেরাও।

আমেরিকার তরফে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান হয়েছে, এ ধরণের সফটওয়্যার সাধারণত রাষ্ট্র ব্যবহার করে। দেশের অভ্যন্তরে বহিঃশত্রুর অবস্থান জানাই যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল হয়তো! কিন্তু বর্তমান, সরকারের বিপরীত মত পোষণকারী যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে এ ধরণের অস্ত্র। বাদ পড়ছেন না সাংবাদিক, সমাজকর্মীরাও। শুধু এসএসো নয়। আমেরিকা আরো একটি ইসরাইলি সংস্থা ক্যান্ডিরু, সিঙ্গাপুরের কম্পিউটার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থা পিটিই এবং রাশিয়ার পজিটিভ টেকনোলজিস-কেও কালোতালিকাভুক্ত করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। এই সব ক’টি সংস্থাই মোবাইল ফোনে আড়িপাতার অভিযোগে অভিযুক্ত।

এর ফলে আমেরিকা থেকে আর কোনো রকম তথ্য-প্রযুক্তির বিপণন করা সম্ভব হবে না ওই সংস্থাগুলোর সাথে। অন্তত, তা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। মিত্র রাষ্ট্র ইসরাইলের ক্ষেত্রে এমন ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা আমেরিকার পক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছে এসএসও। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে এ ধরণের প্রযুক্তিই আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তাকে দৃঢ় করছে। সংস্থার এক মুখপত্র বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করব আমেরিকার কাছে।’ সেই সাথে তিনি এ-ও বলেন, পেগাসাসের মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে নজরদারির অপব্যবহারে।

যদিও পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদে মুখর সারা বিশ্বের বুদ্ধিজীবীরা। অ্যামনেস্টি টেকনোলজির কর্মকর্তা ডানা ইংলেটন বলেন, এনএসও নামক সংস্থাটির তৈরি করা নজরদারি সফটওয়্যার প্রায় সারা বিশ্বেই মানবাধিকারের বিপক্ষে গিয়ে দমনমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরণের বিষয়ের ওপর থেকে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাচ্ছে। আর নির্মাণকারী সংস্থাও এর দায় এড়াতে পারে না।

কিন্ত সর্ষের মধ্যেই যে ভূত! নির্মাণকারী সংস্থা শুধু সফটওয়্যার বিক্রি করে। কিভাবে তা কাজে লাগানো হবে তা ছেড়ে দেয়া হয় ক্রেতার বিবেকের ওপর। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ভেক্ট্রার মুখ্য প্রযুক্তিবিদ অলিভার তাভাকলি বলেন, ‘এটা বোঝাই যাচ্ছে বেশির ভাগ রাষ্ট্রই নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী, নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে নজরদারি চালাতে পেগাসাসকে ব্যবহার করছে।’

সূত্র : এই সময়

Advertisements