কাপাসিয়ায় আপত্তিকর ছবি প্রকাশের জেরে প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকাকে হত্যা

দীর্ঘদিনের প্রেম। প্রেমিকের প্রতি প্রেমিকার আস্থাও জন্মেছিল অনেক। আস্থার জায়গা একসময় নোংরামোতে রুপ নেয়। আর তাইতো প্রেমিকা বিশ্বাস করেই প্রেমিককে আপত্তিকর কিছু ছবি পাঠায় ।প্রেমিক সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।সেই জেরে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ওড়না দিয়ে পেচিয়ে প্রেমিকাকে হত্যা করে প্রেমিক। ঘটনার দুইদিনের মধ্যেই আসামি গ্রেফতারসহ মামলার রহস্যজট উদঘাটন করেন গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এসআই নাহিদ হাসান খান।

(৩০ আগস্ট ২০২১) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় উপজেলার দামুয়ার চালা গ্রামে ওড়না পেচিয়ে ওই প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

ঘাতক প্রেমিক কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানার সবারকুঠি গ্রামের আব্দুল হকের সন্তান হোসেন(২১)। তিনি দামুয়ারচালা গ্রামে ভাড়া থাকতেন। নিহত প্রেমিকা কাপাসিয়া উপজেলার দামুয়ারচালা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের সন্তান আকলিমা (১৮)।

এসআই নাহিদ হাসান খান জানান, উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের দামুয়ারচালা গ্রামে আকলিমাকে বাড়ি থেকে ফোন করে নিয়ে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা প্রসঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায় হোসেন। পরে এক পর্যায়ে হোসেন আকলিমাকে ওড়রা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশ পাশের একটি নালায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর এলকাবাসী তাকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করে জিজ্ঞেসৃ করলে সে কিছুই জানে না বলে জানায়। পরবর্তীতে পুলিশে খবর দিলে এসআই নাহিদসহ তিনজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনতার হাতে আটক হোসেনকে থানা হেফাজতে নেয়। থানায় নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর হোসেন হত্যার ঘটনার বিবরণ জানায় পুলিশকে। অতঃপর (১ সেপ্টেম্বর) কাপাসিয়া থানার হত্যা মামলা নম্বর (০১) দায়ের করে হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কাপাসিয়া থানার এসআই নাহিদসহ তার সহযোগী দুইজন কনস্টেবল মাত্র দুইদিনে এই জটিল হত্যামামলার রহস্য উদঘাটন করায়, উপজেলায় রীতিমতো স্বস্তি বিরাজ করছে। সেইসাথে জনবান্ধব পুলিশিং শ্লোগানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং আস্থা বেড়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এসব আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: নাহিদ হাসান খান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ওসি আলম চাঁদ স্যারের দিক নির্দেশনায় আমি ও একজন নারী কনস্টেবলসহ মোট তিনজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যাই। পরে নিখোঁজ মেয়েটির বিষয়ে জানার চেষ্টা করি এবং জনতার হাতে আটক হোসেনকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে হত্যার বর্ণনা ও লাশের ঠিকানা দেয়। অতঃপর নিহতের ডেটবডি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ওসি আলম চাঁদ জানান, নিহতের লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisements